তালায় বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে থানায় জিডি করলো মেয়ে
তালা প্রতিনিধি: তালার পল্লীতে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে নিজ বাবা-মার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে সোনিয়া খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। তাকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের মো. লিয়াকত আলী সরদারের মেয়ে সোনিয়া খাতুনের সাথে একই উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মৃত ইছাক সরদারের ছেলে জাহিদুল সরদারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয় পরিবারের অমতে গত ২৩ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়াত মোতাবেক তারা বিয়ে করে। বিয়ের পর সোনিয়া তার শ্বশুর বাড়ি নারায়নপুরে সুখে সংসার করছিলো। মেয়ের পিতা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং জাহিদুলের সাথে ঘর-সংসার না করার কথা বলে তার ৩ মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য ওষুধ খাওয়ায়। এতে অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়ার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা শেষে সোনিয়া নিজেই বাদী হয়ে তার পিতা লিয়াকত আলী, মা মোছা. শারমিন বেগম, চাচা রহমান সরদারের বিরুদ্ধে তালা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এ দিকে সাধারণ ডায়েরির পরে সোনিয়া তার স্বামী জাহিদুলের বাড়িতে চলে আসে। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ২৫ এপ্রিল সকালে তাকে তালা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে সোনিয়ার স্বামী জাহিদুল জানান, তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগ এনে শ্বশুর, শ্বাশুড়ি এবং চাচা শ্বশুরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দাখিল করবে।
এ ব্যাপারে সোনিয়ার পিতা লিয়াকত সরদার এর ব্যবহৃত ০১৭০৯-৩১৬০৩২ নাম্বার মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন দিলে রিং হলেও রিসিভ হয়নি।
তালা হাসাপাতালে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডা. আবু সালেহ ও মো. তালহা জানান, প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ভর্তির আধাঘণ্টা পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply