ঢাকাFriday , 19 April 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

শারীরিক প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি তাদের: ক্রিকেট মাঠে আলো ছড়াচ্ছে টিটু ও টুকু

admin ঢাকা
আপডেট: 19 April 2019, 21:05

রাইয়ান সাকিল: শারীরিক প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি তালার মেহেদি হাসান টিটুকে। সুযোগ পেলেই ব্যাট ও বল হাতে ছুটতো খেলার মাঠে। ছুটছেন এখনো। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মেহেদি হাসান টিটু জাতপুর বাজার এলাকার ফারুক হোসেন ও ছকিনা বেগমের বড় ছেলে। বর্তমানে সুভাষিনি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত টিটু শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেটের টানে মাঠ ছাড়েনি কখনও। তার এই আগ্রহ সবার নজরে পড়েছিল সুভাষিনি ক্লাবের কোচ শাহ বিল্লাহর। তার অধীনেই টিটুর ক্রিকেট জীবনের আনুষ্ঠানিক হাতেখড়ি হয়। অনুশীলন করার সময় কোচের কাছ থেকে ক্রিকেটের সকল নকশা বুঝে নিয়েছিল সে। এরপর কোচের অনুপ্রেরণা পেয়ে ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা আরও বেড়ে যায় তার। স¦প্ন পূরণের আলাদা এক শক্তিও অর্জন করে ফেলে সে। ২০১৩ সালে কোচের সাহায্যে সাতক্ষীরা একেডেমিতে অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে যায় টিটু। জেলা পর্যায়ে তাকে আরো পরিণত করে তুলতে পরিশ্রম করেন সাতক্ষীরা জেলা ক্রিকেট দলের কোচ মুফাসিনুল ইসলাম তপু। তাদের সকলের পরিশ্রমের প্রতিদান দিয়েছে টিটু।
২০১৮ সালে ২য় বিভাগ ক্রিকেট লীগে আজাদ স্মৃতি সংসদের হয়ে মাঠে নেমে অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছিল সে। ৩.৩ ওভার বল করে ১২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছিল এই লেগ স্পিনার। একই সালে অক্টোবর মাসে ব্রাক্ষণবাড়িয়া ড্রিম ফর ডিজেবিলিটি ফাউন্ডেশনের হয়ে ভারত সফর করেন তালার এই কৃতি ক্রিকেটার। সেখানে ৩টি ম্যাচের মধ্যে ২টি পরিত্যক্ত হলেও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হয় সে। ৩ ওভার বল করে ৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট লাভ করে এই লেগি। সম্প্রতি সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে চলমান ২য় বিভাগ ক্রিকেট লীগে কুখরালীর বিপক্ষে তালা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে মাঠে নামে মেহেদি হাসান টিটু। এতে ৪ ওভার বল করে ১৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট লাভ করে সে।
ক্রিকেট খেলা নিয়ে মেহেদি হাসান টিটু বলেন, জন্মগতভাবেই আমার দুটি হাত বাকা ও ছোট। অনেকটা অর্ধাংশের মতো। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ক্রিকেটের মধ্যে আমি আলাদা আনন্দ খুঁজে পাই। আমি খেলাটি ইনজয় করি এবং মাঠে নামলেই নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেয়ার চেষ্টা করি।
এদিকে, একই উপজেলার সুভাষিনির নজরুল ইসলাম খান ও মোমেনা বেগমের চার ছেলে মেয়ের মধ্যে সবার ছোট কামরুজ্জামান টুকু। মাত্র আট মাস বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ভর করে তার উপর। তার একটি হাত চিকন ও একটি পা বাকা। তারপরও ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অগাধ ভালবাসা।
বড় ভাই, চাচা ও বন্ধুদের সাথে পাঁচরুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলা করতে যেতো টুকু। ২০০২ সালে নওয়াপাড়া মাঠে বড় ভাইয়ের (মো. মনিরুজ্জামান) সাথে খেলা করতে যেয়ে স্পিনিং ভেলকি দেখিয়ে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু শুরু হয় তার। ৬ রান দিয়ে হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নিয়েছিল এই স্পিনার। সে সময়ের পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছিল সবার। তখন থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধিতা পিছিনে ফেলে মাঠে দাপিয়ে বেড়ান টুকু। এলাকাভিত্তিক টুর্নামেন্টে দক্ষতার সাথে খেলা করে যাচ্ছে তালার এই ক্রিকেটার। এ রকমই একটি টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচ খেলে ১৮টি উইকেট লাভ করেছিল টুকু। এলাকার মধ্যে দুর্দান্ত খেলে সুযোগ পায় সুভাষিনির ক্লাবে। কোচ শাহ বিল্লাহর অধীনে অনুশীলন করে নিজেকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলেছে তালা এই অফ স্পিনার। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে সুযোগ পেয়েছে সাতক্ষীরায় চলমান ২য় বিভাগ ক্রিকেট লীগে তালা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার একাদশে। প্রতিযোগিতামূলক এই লীগের অভিষেক ম্যাচেই আলো ছড়ান কামরুজ্জামান টুকু। ২ ওভার বল করে ৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট তুলে নেন এই স্পিনার। এছাড়া গত সালের ৩০ ডিসেম্বরে ফিজিক্যাল টিমে নিবন্ধনপত্র জমা দিয়েছে টুকু।
ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কামরুজ্জামান টুকু বলেন, প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলত টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আশা করছি এর ধারাবাহিতকতা বজায় রেখে ন্যাশনাল ফিজিক্যাল টিমেও খেলবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *