স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অসহযোগিতা: ঈশ্বরীপুরে দুই বছর ধরে খুড়ে রাখা হয়েছে রাস্তা, ভোগান্তি চরমে!
ডেস্ক রিপোর্ট: এতোদিন শোনা যেত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে কাজ আটকে আছে। কিন্তু এবার এই অভিযোগ স্বয়ং সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অসহযোগিতায় দুই বছর ধরে আটকে আছে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ হতে হরিননগর হাট ভায়া ধুমখালি রাস্তা ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ হতে পরানপুর হাট ভায়া রমজাননগর রাস্তার নির্মাণ কাজ।
দুই বছর ধরে রাস্তাটি খুড়ে রাখা হলেও প্রকৌশল বিভাগের অসহযোগিতায় শেষ নামছে না এর নির্মাণ কাজ। এতে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। নির্মাণাধীন রাস্তা লাগায়ো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই বছর ধরে।
রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাবেয়া ট্রেডাস স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সহযোগিতা চেয়ে বার বার চিঠি দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (কেডিআরআইডিপি)।
সূত্র জানায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দুটি রাস্তার মোট সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাকা করার জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নে দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। এই রাস্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছে দুটি বাজার, তিনটি স্কুল।
এবারই প্রথম ইজিপিতে দরপত্র আহ্বান করায় ৭ শতাংশ লেসে কাজ পায় মেসার্স রাবেয়া ট্রেডার্স। যাতে সরকারের প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বেচে যায়।
শুরুতে কাজের অগ্রগতি বেশ দ্রুত হয়। ২০১৭ সালের জুনে রাস্তার লেয়ার ও মেকাপের কাজ শেষ হলেও অজ্ঞাত কারণে বিল আটকে দেয় প্রকৌশল বিভাগ। এতে জটিলতায় পড়তে হয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। পরে এখানকার প্রকৌশলী পরিবর্তন হলেও রাস্তার কাজের কোন অগ্রগতি হয় নি।
এই ঘটনায় স্থানীয় সাংসদ এস এম জগলুল হায়দার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য কয়েক দফা চিঠি দেন। এমনকি সংসদ সদস্যও প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখাও করেন।
এ বিষয়ে এমপি জগলুল হায়দার বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবহেলিত শ্যামনগরবাসীর প্রাণের দাবি ঈশ্বরীপুর ইউপি রাস্তা উন্নয়নের স্বার্থে সকল জটিলতা নিরসনের জন্য স্থানীয় সরকারের প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছি। এমনকি আমি দেখা করেও বলেছি। অতিদ্রুত এই রাস্তার কাজ শেষ করা দরকার। জনগণ চরম ভোগান্তিতে আছে।
এই বিষয়ে মেসার্স রাবেয়া ট্রেডার্সের মালিক মো. ইলিয়াস হোসাইন বলেন, আমি কাজটি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে করছি। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগের অসহযোগিতার কারণে বিল আটকে যায়। নির্বাহী প্রকৌশলীকে কয়েক দফা অনুরোধ করার পরেও বিল আটকে আছে। এমনকি জটিলতা নিরসন হচ্ছে না। তিনি কোন প্রকার সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় কাজটি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হচ্ছে। আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
তিনি জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এলজিইডির রেট শিডিউল পরিবর্তন হয়, যাতে পূর্বের তুলনায় ২০ ভাগ মূল্য বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে কিভাবে কাজ করবো তা নিয়ে কোন নির্দেশনা নেই।
শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, এই রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় লোকজন অত্যন্ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছ। এর জটিলতা নিরসন হওয়া দরকার।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুজ্জামান জানান, ওই কাজের রেট নিয়ে একটু জটিলতা ছিল, ঠিকাদার মানছিলো না। সেটা নিরসন হওয়ার পথে। খুব দ্রুত আবার রাস্তার কাজ শুরু হবে।

Leave a Reply