ডেস্ক রিপোর্ট: দিন দুপুরে নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়ে সুরঞ্জন পরিবারের জমির গাছগাছালি কেটে সাবাড় করে দিয়েছেন তালার হরিহরনগর গ্রামের আবুল কাসেম সরদার ওরফে কাসেম মাস্টার ও তার লাঠিয়াল বাহিনী। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালার খেশরা ইউনিয়নের বিশ্বাসের চর গ্রামে এই তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। এতে বাধা দিতে গিয়ে আহত ও নাজেহাল হন সুরঞ্জনের স্ত্রী গীতা রানী মন্ডল। এঘটনার পর থেকে তিনি, তার পরিবার ও স্বজনরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন।
মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন সুরঞ্জন। এ সময় তার সাথে ছিলেন তার স্বজন পুরঞ্জন গাইন ও কার্তিক ঢালি। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই তা স্থানীয় চেয়ারম্যান এসএম রাজীব হোসেনকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সুরঞ্জন বলেন, ১৯৬৮ সালে তার মাতা সুন্দরী মন্ডল ও ফেলি মাঝি রাজাপুর মৌজার জেএল নম্বর ২৭, এসএ ৪৫৪, ১৮৩২, ১৮৪৬, ১৮৪৭ ও ১৮৪৮ দাগে মোট ৬ একর ৬১ শতক জমি মূল মালিক গোসাই ও সূর্যকান্তর কাছ থেকে ক্রয় করেন। এরপর থেকে সুন্দরী মন্ডলের ওয়ারেশ হিসাবে তিনি ও ফেলি মাঝির জামাতা পুরঞ্জন গাইন পরিবার পরিজন নিয়ে ওই জমি ভোগ দখল করে আসছেন। ১৯৮০ সালের দিকে জমির প্রকৃত মালিকগণ ভারতে চলে যান। তারা এখন সে দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। সুরঞ্জন জানান, মূল মালিকদের ভারতে থাকার সুযোগ নিয়ে হরিহরনগর গ্রামের কাসেম মাস্টার আমাদের ভোগ দখলীয় রেকর্ডীয় সম্পত্তির ওপর নজর দেন। এরপর থেকে তিনি নানা ফন্দি ফিকিরে তা দখল করে নেওয়ার পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, কাসেম মাস্টার তার আত্মীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আমাদের জমি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দাতা সাজিয়ে তার নামে দলিল করিয়ে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নামে ভুয়া দলিল খাড়া করে প্রকৃতপক্ষে কাসেম মাস্টার আমাদের জমি গ্রাস করার ষড়যন্ত্র করছেন।
সুরঞ্জন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সোমবার সকালে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কাসেম মাস্টারের নেতৃত্বে মুড়াগাছা গ্রামের রহিম শেখের ছেলে শামীম শেখ, আবুল কাসেমের ছেলে শিবলু সরদার, রব শেখের ছেলে মালেক শেখ, হরিহরনগর গ্রামের হাতেম সরদারের ছেলে নজিবর, আইউব আলির ছেলে মান্নান সরদার, সুলতান শেখের ছেলে মোক্তার আলি, মহাবকসের ছেলে আবদুল হক ও সৈয়দ আলি সরদারের ছেলে আজিবর জমি এসে তা-ব শুরু করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উৎসবের আমেজে একের পর এক গাছ গাছালি কেটে সাবাড় করতে থাকে। সুরঞ্জনের স্ত্রী গীতা রানী এতে বাধা দিতে গেলে কাসেম মাস্টার বন্দুক উঁচিয়ে বলেন, সামনে এলে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেবো। তারা হাতে থাকা রাম দা ও কুড়াল দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকায় বাড়ির বা পাড়ার কেউ তাদের সামনে যেতে সাহস করেননি। তিনি জানান, ১৫-২০ জনের একদল লাঠিয়াল বাহিনী ওই জমিতে থাকা আম কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষ, বনজবৃক্ষ , কলাগাছ ও কচু কেটে চুরমার করে তা লুঠ করে নিয়ে যায়। প্রকাশ্যে বাড়ির ওপর এসে এ ধরনের সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ও গুলি করার হুমকির মতো ধৃষ্টতা দেখিয়ে কাসেম মাস্টার এলাকা ত্যাগ করেন। এ সময় হুংকার দিয়ে বলেন, কার বাপের সাধ্য আছে সামনে আয়।
সুরঞ্জন বলেন কাসেম মাস্টারের এই দুর্বৃত্তপনার ঘটনায় আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অসহায় হয়ে পড়েছি। একজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এমনকি তার নামে জমির দলিল করে দিয়েছেন এই আস্ফালন করে কাসেম মাস্টার প্রকৃতপক্ষে আমাদের সম্পত্তি গিলে খাবার জন্য এই থাবা মেরেছে। কাসেম বাহিনী আরও সন্ত্রাস ঘটাতে পারেন এমন আশংকায় আমরা সবাই নিরপত্তাহীনতায় রয়েছি।
সুরঞ্জন বলেন, আমি আমার পরিবারের জমির বৃক্ষ নিধনের ক্ষতিপূরণ চাই। একই সাথে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাতে চাই যে একজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে কাসেম মাস্টার যে সন্ত্রাস চালাচ্ছেন তার প্রতিকার করুন। তিনি বলেন, এ জমি আমাদের নিজস্ব। এতে আর কারও হাত দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।
