ফাহাদ হোসেন: সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শহিদুল আলম নামে এক চিহ্নিত দালালকে আটক করেছে। এ সময় দালালদের সাথে যোগসাজশের অভিযোগে অফিসের কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা দিয়েছে দুদকের অভিযান পরিচালনাকারী টিমটি।
সোমবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আটক শহিদুল আলম শহরের কাটিয়ার রেজিস্ট্রি অফিস পাড়া এলাকার মৃত বাশারত আলীর ছেলে।
পরে আটক শহিদুলকে দু’হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোষ জানান, সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে দালাল ছাড়া কাজ হয় না- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দালালদের দৌরাত্ম্যের সত্যতা পায় দুদক। এ সময় শহিদুল আলম নামের এক চিহ্নিত দালালকে আটক করা হয়। পালিয়ে যায় আরও কয়েকজন।
তিনি আরও জানান, পরে আটক শহিদুলকে ভাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান আকরামুল ইসলাম তাকে তাকে দু’হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ড প্রদান এবং পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে তার দোকান ঘর সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেন। এ সময় দালাল শহিদুল ইসলাম নগদ ২ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে শর্ত মেনে নিয়ে মুক্ত হয়।
এদিকে, আটক দালাল শহিদুল ইসলাম জানান, পাসপোর্ট করতে আসা মানুষের কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি ২ হাজার টাকার পুরোটা সে হজম করতে পারে না। এ টাকা ভাগ হয়ে যায় বিভিন্ন দপ্তরে। পাসপোর্ট অফিসের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী এ টাকার ভাগ পায়। ভেরিফিকেশন করার জন্য পুলিশকেও দিতে হয় ভাগের অংশ। আমার ভাগে থাকে অল্প।
শহিদুল দালাল আরও জানায়, প্রতি পাসপোর্টে বাড়তি ২ হাজার টাকার মধ্যে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাকে দিতে হয় ১ হাজার টাকা। যা তারা নিজেরা ভাগ করে নেন। পুলিশকে ভেরিফিকেশন করার জন্য দিতে হয় ৫শ টাকা। বাকি ৫শ টাকা আমার থাকে।
অন্যদিকে, পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষ জানান, দালাল ব্যতীত কেউ পাসপোর্ট জমা দিতে গেলে অফিস থেকে নানা ভুল দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কোনো ভুলই থাকে না। কারণ সাধারণভাবে পাসপোর্ট করতে লাগার কথা ৩ হাজার ৪শ ৫০ টাকা। কিন্তু দালালের হাতে ২ হাজার টাকা বেশি দিলে সব ঠিক হয়ে যায়।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, যারা দালালের মাধ্যমে কাগজ জমা দেয় তাদের গোল সিল মারা হয় ফরমের ডান পাশে। আর যারা নিজেরা কাগজ জমা দিতে যায় তাদের গোল সিল মারা হয় বাম পাশে। সুতরাং যাদের বাম পাশে সিল মারা থাকে, অফিসারগণ সহজেই তাদের ভোগান্তিতে ফেলতে পারে।
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক তরুন কান্তি ঘোস সাংবাদিকদের জানান, আমরা দুদকের হটলাইন ১০৬ এ অভিযোগ পেয়ে সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছি। আমাদের টিম গোপনে এ অফিসের পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ঘটনার সত্যতা পেলে আমরা মেইন গেট বন্ধ করে দিয়ে ভিতরের পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছি। এতে কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। আমরা অফিসের সুপার জগদ্বীপ ও এনরোলমেন্ট নির্বাহী মো. ফারুককে অফিসিয়ালি সতর্ক করেছি এবং অন্য দালাল যারা আছে তাদের নাম ঠিকানা ডিবির কাছে প্রেরণ করেছি।
এদিকে, দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রতি কর্মদিবসে গড়ে ১৫০টি পাসপোর্টের আবেদন পড়ে। এই হিসেবে সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে দৈনিক ৩ লাখ টাকা ভাগ বাটোয়ারা হয়।
