ডেস্ক রিপোর্ট: সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরাস্থ অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পথে বসেছেন শত শত গ্রাহক। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাতক্ষীরা শহরের বদ্দিপুর কলোনির আবদুস সবুর গাজী এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির কর্মকর্তা একই এলাকার মো. ভন্টুর ছেলে ইয়াসিন আলীর মাধ্যমে তিনি ২০১১ সালের ২০ জুন ৫ হাজার ২৯০ টাকার একটি পলিসি খোলেন। কিন্তু আর্থিক টানাপড়েনের কারণে তিনি পলিসি টানতে ব্যর্থ হন।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ইয়াসিন আলি তাকে জানান, এখন জরিমানাসহ বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হলে ১৭ বছর পর এককালিন ৩ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। সে অনুযায়ী তিনি ২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বর ইয়াসিনের হাতে ৪২ হাজার ৩২০ টাকা তুলে দেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত মানি রিসিট দেওয়ার কথা থাকলেও ইয়াসিন তা দেন নি। এমনকি তাকে আর খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছিল না।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স এর সাতক্ষীরা জেলা অফিস বড় বাজার সড়কের ওয়ান ব্যাংকের উপরতলায় যেয়ে দেখা যায় তালা বন্ধ। সেখানে কোনো সাইন বোর্ড নেই। এমনকি জেলার দায়িত্বে থাকা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালিথা গ্রামের সোহেল উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ ও তার সহকর্মী কালিগঞ্জের বাগানলতা গ্রামের আছিরুদ্দিনের ছেলে ফারুক হোসেন সাগরও নিখোঁজ।
তিনি জানতে পারেন, ইয়াসিন ও আবুল কালাম আজাদ ভারতে অবস্থান করছেন অনেকদিন ধরে। আর তাদের কাছে পলিসি খুলে সাতক্ষীরার বিপুল সংখ্যক গ্রাহক হায় হায় করছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এরা আসলে একটি প্রতারক চক্র। এই চক্রটি নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে।
আবদুস সবুর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি সম্প্রতি সাতক্ষীরা আমমী আদালতে ইয়াসিন, আবুল কালাম আজাদ ও সাগরের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার পর থেকে তাদের ভাড়াটিয়া ছট্টু ও আসাদুজ্জামান নামের দুই ব্যক্তি তাকে টেরিফোনে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। তারা তাকে খুন করারও হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুস সবুর এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেছেন।
