কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজ উদ্দীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো হরতাল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। যদিও তার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে না তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হরতালে স্থানীয় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দিনভর বন্ধ ছিল। সড়ক অবরোধের কারণে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীসাধারণ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। দুপুরে জুমআ’র নামাজের আগে ও পরে কিছু সময়ের জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়। তবে বিকেল থেকে শ্যামনগর-সাতক্ষীরা সড়কের ফুলতলা মোড় এলাকায় আবারও সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
তারালী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হোসেন ছোট শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে হরতাল ও অবরোধ পালিত হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ রিয়াজ উদ্দীনের উপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এজন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার জন্য প্রশাসন দায়ী থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি। নেতৃবৃন্দ বসে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
প্রসঙ্গত, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নীলকন্ঠপুর গ্রামের নবীর শেখের ছেলে শেখ রিয়াজ উদ্দীন (৫৫), একই গ্রামের আমজাদ মোড়লের ছেলে তাহের মোড়ল (৪০) ও তার সহোদর আলাউদ্দীন মোড়ল (৩৪) মোটর সাইকেলযোগে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালিগঞ্জ থেকে বাড়ি ফেরার সময় কুশুলিয়া এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর নেতৃত্বে তার কর্মী সমর্থকরা হামলা চালায় বলে তারা অভিযোগ করেন।
বর্তমানে শেখ রিয়াজ উদ্দীন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসব ঘটনায় শুক্রবার থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
এদিকে, রাত ৮টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলছিল। উপজেলা সদরের ফুলতলা মোড় ও পাশর্^বর্তী এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এসব এলাকায় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে, উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী জানান, রিয়াজ চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হয়েছেন। এটাকে নাটক বানিয়ে তার উপর হামলার অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু এর কোন ভিত্তি নেই। ইতোমধ্যে রিয়াজ চেয়ারম্যানকে উদ্ধারকারী এক গ্রাম পুলিশ এ ব্যাপারে সত্য প্রকাশ করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমি চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত হোক।
