মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা: সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বয়ে চলেছে যৌবন হারা লাবণ্যবর্তী খাল। আর এই খাল অসংখ্য মানুষের জীবন জীবিকার উৎস। একদিকে খালের লোনা পানিতে চাষ হয় মাছ। অন্যদিকে লোনা পানিতে নষ্ট হয় হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল। যা নিয়ে বিপাকে স্থানীয় মাছ ও ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষিরা।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দেবহাটার ইছামতি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে সাতক্ষীরা সদরের ভোমরা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার এলাকা হতে দেবহাটার সাথে মিলিত হওয়া লাবণ্যবর্তী খালটি বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করেছে। এমনকি খালের একটি শাখা মিশে গেছে সদর উপজেলার গুচ্ছগ্রাম, বাদামতলা, গাংনী, মাহমুদপুর, ভাড়ুখালিসহ বিস্তর এলাকায়। সদরে মিলিত হওয়া অংশটির পুরো এলাকা বেষ্টিত হাজার হাজার বিঘা জমির মৎস্যঘের ও মাঠের ফসল। কিন্তু চৈত্র-বৈশাখ মাসের লোনা পানি ঐ এলাকার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। আর এটি রূপ নেয় মহামারিতে। কারণ এই সময় তীব্র রোদের তাপে মাঠঘাট শুকিয়ে যায়। আর লোনাপানি প্রবেশ করলে মাটির আদ্রতা বৃদ্ধি পেয়ে লবণের প্রভাবে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আর অন্যদিকে, কুলিয়া ও পারুলিয়া ইউনিয়নের বাগমারি, পদ্মচোখা, কুমিরমারি, সুবর্ণাবাদ, রঘুরাথপুর, আন্দুলপোতা, নুনেখোলা, হিজলডাঙ্গা, রামনগর, শ্যামনগর, গোপরাখালি, শশাডাঙ্গা, হিরারচক, শান্তা, নাজিরের ঘের, ফুলবাড়িয়া, টিকেট, সদর উপজেলার গাভা-ফিংড়ী, আশাশুনি উপজেলার মজগুল খালি, বদরতলা, শরাফপুরসহ বিস্তর এলাকার হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘেরে লোনা পানি না ওঠার কারণে চিংড়ী চাষ হুমকির মুখে।
উভয় দিক বিবেচনা করে কোমপুরের স্লুইস গেট কখনো বন্ধ করে দেওয়ায় হয়, আবার কখনো খুলে দেওয়া হয়। এতে একদিকে মৎস্যচাষীদের উপকার হয়, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়েন চাষীরা। ফলে শংকিত হয়ে পড়েছে উভয় এলাকার চাষীরা। সে কারণেই স্থানীয়দের উদ্যোগে বাধ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে সদর উপজেলার সাথে মিলিত হওয়া খালের পানি প্রবাহ। যাতে ব্যয় হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। বর্ষা মৌসুম এলে উন্মুক্ত করে দিতে আবারও পকেট থেকে টাকা গুনতে হয় ভুক্তভোগীদের। প্রতিবছর এভাবে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এদিকে খালটি দুই উপজেলার মধ্যবর্তী হওয়ায় নজর আসে না প্রশাসনের। আর সমাধানও হচ্ছে না বিষয়টি। এ পরিস্থিতিতে উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় একটি স্লুইস গেট প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে কুলিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম জানান, মাঝে মাঝে শ্রীরামপুর বাজার সংলগ্ন শ্রীরামপুর শাখা খালের মুখ বেধে দিয়ে পানি ওঠানো হচ্ছে। স্লুইস গেইট নির্মাণ অনেক ব্যয় বহুল। তাই আমার নিজের পক্ষে এত টাকা খরচ করা কষ্টকর। যদি প্রশাসন উদ্যোগ নেয় তাহলে হাজারও মানুষের সমস্যা সমাধান হবে। সাথে সাথে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
