ইউএনও বললেন, নির্বাচনে অবৈধ সুযোগ সুবিধা না পেয়ে অভিযোগ তুলছেন আতাউর: কালিগঞ্জে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ করলেন নৌকার প্রার্থী
ডেস্ক রিপোর্ট: উপজেলা নির্বাচনে তিন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম ভোট (৯৪৯৬) পেয়ে জামানত হারানো কালিগঞ্জের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভোট ডাকাতি করেছেন। তিনি বলেন, আগেই বেশ কিছু সংখ্যক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ভুয়া কর্মকর্তাদের ভোট গ্রহণ কাজে নিয়োগ করা হয়। তারাই এই ভোট ডাকাতির সাথে জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, বিজয়ী প্রার্থী সাঈদ মেহেদির সাথে যোগসাজশ করে এই অনিয়ম করা হয়েছে।
শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন নৌকার প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ আতাউর রহমান। তবে তিনি পুনঃনির্বাচন দাবি না করেই বলেন, এসব বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবেন। প্রয়োজনে মামলা করবেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এর প্রতিকার দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ আতাউর রহমান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভোট কেন্দ্র থেকে নৌকার এজেন্টদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৭৮টি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সহযোগিতা নিয়ে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সাঈদ মেহেদি জুলুম করে ভোট ডাকাতি সংঘটিত করেছেন। ২৫টি মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান নাম সর্বস্ব, ঠিকানাবিহীন ও অস্তিÍত্বহীন। এর ভুয়া শিক্ষকদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভোট চুরি করে ঘোড়ার প্রার্থীকে জয়ী করা হয়েছে। এছাড়া ব্লক সুপারভাইসর, ল্যাব সহকারি ও পোস্টম্যানদেরও ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একই কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা হিসাবে তিনি সাঈদ মেহেদির বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ তুলে ধরেন। সাঈদ মেহেদির কারণে এখন কালিগঞ্জে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দেওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মারপিট করতে শুরু করেছেন বিজয়ী প্রার্থী ও তার লোকজন।
সংবাদ সম্মেলনে কালিগঞ্জে পুনরায় ভোট চান কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে আতাউর রহমানের পক্ষে কথা বলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাহার হোসেন কান্টু। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে শেখ আতাউর রহমান বলেন, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশ সরকার, সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে অবহিত করতে চাই। একই সাথে সচেতন দেশবাসীকে অবহিত করে উপযুক্ত প্রতিকার চাই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজয়ী প্রার্থী সাঈদ মেহেদী বলেন, ২৪ মার্চের নির্বাচনে জামানত হারিয়ে শেখ আতাউর রহমান এখন ভুল বকছেন। আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা। ভোট গ্রহণ কাজে নিয়োগ প্রদান প্রশাসনিক বিষয়। এ ব্যাপারে আমার হাত থাকার কথা সত্য নয়। ভোটের পরে আমার কোনো নেতাকর্মী কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়ায়নি।
তবে এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শেখ আতাউর রহমানের কোনো অভিযোগ তিনি লিখিতভাবে পাননি। তিনি বলেন বিধিবহির্ভুতভাবে কোনো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ থেকে থাকলে তা তিনি নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি নির্বাচনে কোনো ধরনের অবৈধ সুযোগ সুবিধা না পেয়ে এ ধরনের কথাবার্তা বলছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোজাহার হোসেন কান্টু, তারালি ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, ধলবাড়িয়ার গাজি শওকত হোসেন, চাম্পাফুলের মোজাম্মেল হক, রতনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম খোকন, নলতার আজিজর রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ২,১৭,৭০৬ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ১,০৩,৪৩০ টি। এর মধ্যে নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ৯৪৯৬ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন তার ভাতিজা মেহেদি হাসান সুমন ৩৪,৭৬৬ ভোট। বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাঈদ মেহেদী পেয়েছেন ৫৬,৮৩৮ ভোট। এ নির্বাচনে যথেষ্ট সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় শেখ আতাউর রহমান তার জামানত হারিয়েছেন।
Leave a Reply