ডেস্ক রিপোর্ট: কলারোয়ায় এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের রামভদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম সাবানা খাতুন (২৭)। তিনি যশোর জেলার সামটা গ্রামের ইসমাইল গাজীর মেয়ে ও কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে রিপন হোসেনের স্ত্রী।
নিহত গৃহবধূর ভাই আবুল কাশেম জানান, কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে রিপন হোসেনের সাথে ১২ বছর পূর্বে তার বোন সাবিনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান আছে। বিয়ের ৩-৪ বছর পর থেকে প্রায় সময়ই যৌতুক দাবি করে আসছিলো রিপন হোসেন। এ নিয়ে দুই জনের (স্বামী-স্ত্রী) ঝগড়া বিবাদ ছাড়াছাড়ির পর্যায়েও পৌঁছায়। যা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মিমাংসা করা হয়। ৩-৪ মাস ভালো থাকার পর ফের রিপন যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে আসাছিলো তার বোন সাবানাকে।
গত ১৫ দিন আগেই রিপন তার বোনকে যৌতুকের দাবিতে বেধড়ক মারপিট করে। এনিয়ে দুজনের মনোমালিন্য চরম আকার ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৬০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়ে আসার কথা বললে দুজনের মধ্যে ফের ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। এসময় রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে তার বোনকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। যন্ত্রণাকাতর হয়ে বোন সাবানা খাতুন মাটিতে পড়ে গেলে তার গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে রিপন।
এ সময় তার বোনের আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় গয়ড়া বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে ঝাউডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছুলে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে রিপন হোসেন পালিয়ে যায়।
তবে রিপনের বাবা জিয়াদ আলী জানান, রাতে তারা (রিপন ও বৌমা) রাগারাগি করে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে তিনি জানতে পারেন ঘর থেকে বাইরে আসার সময় বৌমা পড়ে যেয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছে। এ সময় বমি হতে থাকলে তাকে ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে সাবানা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে তিনি জানতে পারেন।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতল মর্গে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বর্তমানে এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহতের পক্ষে থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
