দেবহাটা প্রতিনিধি: উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেবহাটায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট স.ম গোলাম মোস্তফার ৭ জন কর্মী-সমর্থককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে দেবহাটা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফার কর্মী সমর্থকরা থানা এলাকায় অবস্থান নেন। পরবর্তীতে পুলিশের কঠোরতায় গ্রেফতারকৃতদের ছাড়া হবে না এমন খবর জানতে পেরে কর্মসূচিতে অংশ নেন আনারস প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা। এ সময় রাস্তায় শান্তিপূর্ণ অবরোধ চলাকালে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ধৃতদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে মুক্তির কথা জানানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার পরে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট স.ম গোলাম মোস্তফা। আরো উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান, সহ-সভাপতি ও দেবহাটা সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, মোসলেহ উদ্দীন মুকুল, শরৎ চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কুলিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান মিন্নুর, সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, ছাত্র লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আমেনা রহমান, জিএম স্পর্শ, প্রিয়াংকা রাণী, ইউপি সদস্য, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট স.ম গোলাম মোস্তফা জানান, শুক্রবার দিনগত রাত ৩টার দিকে দেবহাটা সার্কেল এএসপি শেখ ইয়াছিন আলী ও দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহার নেতৃত্বে আমার ৭ কর্মীকে আটক করা হয়। একটি মহলের প্ররোচনায় কোন অভিযোগ ছাড়া পারুলিয়া ইউপির ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, সখিপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আবু রায়হান, মনিরুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রায়হান আহম্মেদ ও রাজু আহম্মেদকে আটক করা হয়।
তিনি আরো বলেন, কারণ ছাড়াই পুলিশ ভোটের মাত্র দুদিন আগে নেতাকর্মীদের আটক করায় আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে থানা ঘেরাও করে। তাদের দাবির মুখে বিকাল ৩টার দিকে আটককৃতদের মধ্যে পাঁচ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রায়হান আহম্মেদ ও রাজু আহম্মেদকে পূর্বে মামলা থাকায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে প্রচার প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়। আটক সাত জন সম্পর্কে যাচাই বাছাই শেষে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাকি দুজনের নামে মামলা থাকায় তাদেরকে চালান দেয়া হয়েছে।
