উপজেলা নির্বাচনে তালায় জটিল সমীকরণ
সৌমেন মজুমদার, তালা: তালা ও পাটকেলঘাটা প্রশাসনিক থানা নিয়ে গঠিত তালা উপজেলা। ১২টি ইউনিয়নের এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৪৫। ২৪ মার্চ আসন্ন তালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চারিদিকে এখন উৎসবের আমেজ। চায়ের দোকানগুলোর আড্ডায় চলছে ভোটের হিসাব নিকাশ। উপজেলার ছোট বড় সব সড়কের পাশে সোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার। গানের সুরে সুরে প্রার্থীদের পক্ষে চলছে মাইকিং। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা কখনো মিছিল নিয়ে, কখনো পায়ে হেটে যাচ্ছেন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভোটারদের দরজায়। দিচ্ছেন চমক ধরানো নানা প্রতিশ্রুতি। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় বাজারগুলোতে বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা। সবমিলিয়ে জমে উঠেছে তালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুইজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দু’বারের উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার এবং আনারস প্রতীকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, খেশরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা এম এম ফজলুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইখতিয়ার হোসেন, উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমান, তালা প্রতীক নিয়ে উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার, চশমা প্রতীক নিয়ে উপজেলা কৃষকলীগের সদস্য সচিব মো. আমিনুজ্জামান ভোট যুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।
এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন্নেছা খানম, কলস প্রতীক নিয়ে খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মুরশিদা পারভীন পাপড়ী এবং হাঁস প্রতীক নিয়ে শাকিলা ইসলাম জুই নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে, ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষ সনৎ কুমার ও এম এম ফজলুল হকের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ততই বাড়ছে। উভয় প্রার্থীর পক্ষে বিপক্ষে ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে সবকিছু ছাপিয়ে ভোটারদের নজর এখন ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের দিকে। ভোটাররা মনে করছেন এ পদে অধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় নির্বাচনী সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান টিউবওয়েল প্রতীকের মো. ইখতিয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলে কাজ করে ভোটারদের নিজের অনুকূলে আনার চেষ্টা করেছেন। এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি উড়োজাহাজ প্রতীকের সরদার মশিয়ার রহমান দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তৃণমূলের মানুষ ও তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এছাড়া সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলায় আহত এ নেতা নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মাঠ নিজের দখলে নিতে সাধ্যমত গণসংযোগ করছেন। থেমে নেই তালা প্রতীকের প্রার্থী শ্রমিক নেতা আব্দুল জব্বারও। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ চষে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তিনি।
এদিকে, চশমা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা কৃষকলীগের সদস্য সচিব মো. আমিনুজ্জামানও ভোটারদের সমর্থন আদায়ে সাধ্য মত গণসংযোগ করছেন।
স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. ইখতিয়ার হোসেন ও সরদার মশিয়ার রহমানের মধ্যে তুমূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
অন্যদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেবুন্নেছা খানম, মুরশিদা পারভীন পাপড়ী এবং শাকিলা ইসলাম জুইও প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। নারী ভোটারদের সমর্থন বেশি আদায়ের চেষ্টা করছেন তারা। এ দিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা নির্বাচন অফিস সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৪৫ জন ভোটারের মধ্যে উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৪ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬১ জন। বিপুল সংখ্যক এই ভোটারের ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ৯৩টি ভোট কেন্দ্র। ৫৯৮টি স্থায়ী কক্ষ এবং ৮২টি অস্থায়ী কক্ষে ২৪ মার্চ সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারে। পূর্বের ন্যায় এবারও নৌকা প্রতীকের বিপুল বিজয় হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-বিএনপির লোকজন আনারসের পক্ষ নিয়ে নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থদের উপর হামলা চালাচ্ছে।
আনারস প্রতীকের প্রার্থী এম এম ফজলুল হক বলেন, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তবে নির্বাচন হতে হবে ১০০% সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। কর্মী সমর্থক ও ভোটারদের ব্যাপার সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু আমার এ জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা আমার সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের উপর হামলা করছে ও হুমকি দিচ্ছে। এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদেরও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

Leave a Reply