খুলনায় সাতক্ষীরার যুবক সবুজ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ২, আরও একটি পা উদ্ধার
ডেস্ক রিপোর্ট: খুলনায় সাতক্ষীরার যুবক হাবিবুর রহমান সবুজকে (২৬) ৮ খণ্ড করে হত্যায় জড়িত সন্দেহে ২ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার র্যাব পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর ফারাজিপাড়ার একটি বাড়ির কক্ষ থেকে নিহত হাবিবের শরীরে টুকরোর অবশিষ্টাংশ কাটা পা উদ্ধার করে।
র্যাব-৬ সূত্র জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর ফুলবাড়ি গেট এলাকা থেকে আসাদুজ্জামান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর ৪৩, ফারাজিপাড়া লেনের চারতলা বিশিষ্ট ‘হাসনাত মঞ্জিল’র নিচতলায় তার ভাড়া বাসা থেকে হাবিবের মরদেহের অবশিষ্টাংশ পা উদ্ধার করা হয়। একই সময় বটিয়াঘাটার নিজ বাসা থেকে অনুপম নামের আরেক যুবককে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মেজর শামীম সরকার বলেন, ভোরে কুয়েটের সামনে থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করার পর তার তথ্যমতে তারই বাসা থেকে সাড়ে ৬টার দিকে ওই কাটা পা উদ্ধার করা হয়। একই সময় বটিয়াঘাটার নিজ বাসা থেকে অনুপমকে গ্রেফতার করা হয়।
হত্যাকা-ের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকারীদের সঙ্গে নিহত হাবিবের খুলনা কারাগারে পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরে হাবিবের কাছে থাকা আর্থিক লেনদেনের একটি স্ট্যাম্প ও মোটরসাইকেল হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য থেকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে গুম করার পরিকল্পনা ছিল হত্যাকারীদের।
উল্লেখ্য, ৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহানগরীর শেরে বাংলা রোডে পলিথিন মোড়ানো মরদেহের একটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুরে ফারাজিপাড়া রোডে ড্রেনের পাশ থেকে দু’টি ব্যাগে থাকা মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের পর ৮ মার্চ বিকেলে মরদেহের ৭টি খণ্ডিত অংশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে লাশের মাথা, দুই হাতের চারটি খণ্ড ও পায়ের ওপরের অংশ থেকে গলা পর্যন্ত দুইটি অংশ ছিলো।
এ ঘটনায় ৯ মার্চ নিহতের ভগ্নিপতি গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের শিকার হাবিবুর রহমান সবুজ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ওমরাপাড়া গ্রামের আদুল হামিদের ছেলে।
আদুল হামিদ ওইদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মঙ্গলবার সকালে তার মাকে জানিয়ে নিজের মোটর সাইকেলে খুলনায় যায় সবুজ। পরদিন ফিরে আসার কথাও বলেছিল সে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিরে না আসায় তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি করেন (নম্বর ২৯৩ তারিখ ০৭.০৮.১৯) । ওই রাতেই খুলনার ফারাজিপাড়া মোড়ে পলিথিনের বস্তায় মোড়ানো একটি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে তিনি নিজে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন।

Leave a Reply