সৌমেন মজুমদার, তালা: তালা উপজেলার নূরুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে রাখা হয়েছে রাস্তার নির্মাণ সামগ্রী। নির্মাণ সামগ্রীর ধুলাবালি এবং বিটুমিনের কালো ধোঁয়া ও তীব্রগন্ধে ক্লাস করতে পারছে না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলজিইডির অধীনে উপজেলার বারুইহাটি থেকে জাতপুর অভিমুখে তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ করা হচ্ছে। কাজটি পেয়েছেন সাতক্ষীরার ইকবাল তালুকদার নামে এক ঠিকাদার। কাজ শুরুর আগে থেকে বিদ্যালয়ের মাঠে বালু, পাথরের কুচি, বিটুমিনের ড্রাম রাখা হয়েছে। এখানে বিটুমিন গলানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ ও পুরানো জুতার তলা। এসবের ধুলাবালি এবং বিটুমিনের কালো ধোঁয়া ও তীব্রগন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে বালু, পাথরের কুচি, বিটুমিনের ড্রাম ও পাথর-বালু মিশ্রণের জন্য প্লান্ট বসানো আছে। বিকট শব্দে চলছে সেটি। কাঠ ও পুরনো জুতার তলা জ্বালিয়ে বিটুমিন গলানো হচ্ছে। তীব্র কালো ধোঁয়ায় ওই এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। নির্মাণ সামগ্রীর ধুলাবালি আর কালো ধোঁয়া এবং বিটুমিনের তীব্র গন্ধে ক্লাস করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। রাস্তার কাজে ব্যবহার করার জন্য গলানো পিচ ট্রলি ভর্তি করে নেওয়া হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। প্রায় এক মাস ধরে চলছে এই কর্মযজ্ঞ। স্কুল মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রেখে কাজ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শব্দ আর ধুলাবালিতে স্কুলে থাকাই কষ্টকর। পাঠ গ্রহণে মন দেওয়া যাচ্ছে না। এতে আমরা অসুস্থ বোধ করছি।
ঠিকাদার ইকবাল তালুকদার বলেন, কোনো জায়গা না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গত এক মাস ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে রাস্তার কাজের নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। আর কয়েকদিন পর কাজ শেষ হয়ে যাবে। এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করা হচ্ছে। সমস্যা একটু হতেই পারে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, আমি সপ্তাহখানেক আগে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিদ্যালয়ের মাঠ রাস্তার নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কিভাবে নেওয়া হয়েছে বিষয়টি আমি জানি না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার মিত্র বলেন, স্কুল মাঠে মালামাল রাখতে আমি অনুমতি দেইনি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অনুমতি দিয়েছেন।
তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, স্কুল মাঠে মালামাল রাখার বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অনুমতি দিয়েছে বলে শুনেছি।
তালা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মো. জসিম বলেন, ঠিকাদার কোথায় কি রেখে কাজ করবে সেটা তার বিষয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন বলেন, বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
