মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা: টেকনিশিয়ান না থাকায় দীর্ঘ আট বছর ধরে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে বিভাগের সেবা বন্ধ রয়েছে। টেকনিশিয়ান চেয়ে কয়েক দফায় চিঠি পাঠানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। এতে দেবহাটা উপজেলার ২ লক্ষাধিক মানুষ এক্স-রে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সেবা চাল না থাকায় দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের গুণতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি টাকা। এতে লাভবান হচ্ছে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা নামসর্বস্ব বেসরকারি ক্লিনিকগুলো।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালের জুলাই মাসে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যাত্রা শুরু করে। পরে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ২০১১ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দেবহাটা উপজেলার ২ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য নিয়োজিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই ডাক্তার, নেই পর্যাপ্ত জনবল। যারা আছেন তারাও ঠিকমত থাকেন না স্টেশনে- এমন অভিযোগও রয়েছে। আর এতে করে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গোটা উপজেলাবাসী।
অন্যদিকে হাসপাতালের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও ব্যবহার না করায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এমনিভাবেই ৮বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে এক্স-রে বিভাগ। আর তাই এক্স-রে মেশিনগুলো বিকল হওয়ার পথে।
এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকার কারণে রোগীদের সীমাহীন কষ্ট শিকার করতে হচ্ছে। ফলে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে।
হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগে সেবা নিতে আসা আব্দুল্লাহ জানান, এসে দেখি এখানে টেনিশিয়ান নেই। তাই বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে এক্স-রে করাতে যাচ্ছি। সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, দেশের চিকিৎসা সেবা শুনেছি এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটা টেকনিশিয়ান কি সরকার নিয়োগ দিতে পারে না। আমাদের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছে দাবি দ্রুত সংসদে এ সমস্যার কথা জানিয়ে এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
হাসপাতালের অফিস সুপার আব্দুর রাশেদ জানান, দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০০এমএ ও ৫০০এমএ ক্ষমতা সম্পন্ন এক্স-রে মেশিন ২টি ২০১১ সাল থেকে টেকনিশিয়ান না থাকায় বন্ধ আছে। বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন পাঠানো হলেও ৮ বছর পদটি শূন্য রয়েছে।
তিনি আরও জানান, টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগ না থাকায় চাহিদা পূরণ করতে ব্যার্থ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে আদালতে বিচারকার্য চলমান রয়েছে। বিচারের রায় ঘোষণা হওয়ার পর পদটিতে লোকবল নিয়োগ কাজ সম্পন্ন হবে। টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে বিভাগের যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয় না।
অন্যদিকে, কোন বাজেট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সার্ভিসিং করা হয় না মেশিনগুলো।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, আমাদের এখানে রেডিওগ্রাফার না থাকায় এ বিভাগের সেবা বন্ধ রয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়ে বারবার চিঠি দিয়েও কোন সাড়া পাইনি।
