তালায় বসতবাড়ি ভাংচুর ও লক্ষাধিক টাকার সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ
তালা প্রতিনিধি: তালার পল্লীতে বসতবাড়ি ভাংচুর করে নগদ টাকা ও মালামালসহ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের নলতার বসুপাড়া গ্রামে স্বপন ব্যানার্জীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্বপন ব্যানার্জী ও তার পরিবার বাড়িতে না থাকার সুযোগে পরসম্পদ লোভী একই গ্রামের মৃত কেষ্টপদ বসুর ছেলে সুব্রত ওরফে মধু বসু এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয় নিয়ে তালা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নলতা গ্রামের এনায়েত শেখ, আছলাম গাজী, হাফিজা বিবি, জেলেখা বিবি, জামাল মোল্য, মালেত শেখ জানান, ১৯৭১ সাল থেকে অনন্ত ব্যানার্জ্যী নামে একব্যক্তি খলিলনগর ইউনিয়নের নলতা মৌজার জে এল নং-১৩৭, খতিয়ান নং- ১৭০, সাবেক দাগ-৩৯৭৮, জমির পরিমান ৪৭ শতক, এর উপর বসত ঘর নির্মাণ করে বসবাস করা কালিন তার মৃত্যু হয়। পরে তার সন্তান স্বপন ব্যানার্র্জী দীর্ঘ ৪৫ বছর যাবত বসবাস করে আসছে। গরীব অসহায় হওয়ায় স্বপনকে তাড়িয়ে ভুমি খেকো সুব্রত ওরফে মধু বসু জবর-দখলের জন্য দীর্ঘদিন পায়তারা চালিয়ে আসছে। স্বপন ও তার পরিবারকে এর আগেও একাধিকবার মারপিঠ এর ঘটনা ঘটিয়েছে মধু বসু। ম্বপনের স্ত্রী ঝর্ণা রাণী ব্যানার্জ্যী অসুস্থ হয়ে বাবার বাড়ি চিকিৎসার জন্য গেলে সেই সুযোগে রবিবার সকালে মধুগংরা ঘরবাড়ী ভাংচুর করে মালামাল বহন করে নিয়ে যায়। এতে স্বপন সর্বস্ব হারিয়ে একমাত্র কন্যাকে নিয়ে রাস্তায় বসেছে। এ ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্বপন ব্যানার্জী জানান, আমার বাবার বসতভিটায় আমি প্রায় ৪৫ বছর যাবত বসবাস করে আসছি। বিভিন্ন সময় মধু বসু আমাকে বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলে। কিন্তু আমি চলে যেতে না চাওয়ায় আমাকে আমার কন্যা সন্তানকে এবং আসার স্ত্রীকে একাধিক বার মারপিঠ করাসহ জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। একপর্যায় খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু আমাকে ডেকে বলে তুমি ২০/৫০ হাজার টাকা নিয়ে জমি ছেড়ে চলে যাও। তা নাহলে তোমার প্রতি আরও অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে পারে। আমি তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে গত শনিবার তালা থানায় নির্মল দারোগার মাধ্যমে ডাকে। কিন্তু আমি হাজির না হওয়ায় রবিবার সকালে আমার বসতবাড়ী ভাংচুর ও মালামাল লুটপাট করে প্রায় লক্ষাধীক টাকার ক্ষতি করে আমাকে রাস্তায় বসিয়েছে। স্বপন এঘটনার জন্য বর্তমানে সাতক্ষীরা পুলিশ পুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে সুব্রুত ওরফে মধু বসু জানান, আমি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ভাংচুর করেছি। জমি আমার পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া।
খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু জানান, ঘরবাড়ী ভাংচুরের ব্যাপারে আমি কোন নির্দেশ দেয়নি। ওদের দু’পক্ষকে ডেকে ৫০ জাহার টাকা স্বপনকে দিয়ে মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি যাতে কোন দাঙ্গা না হয় কিন্তু স্বপন সেটা মেনে নেয়নি। তবে এটি এনিমি সম্পত্তি স্বপনের দখলে আছে।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, বিষয়টি শুনেছি ইতোপূর্বে স্বপন ব্যানার্জী বাদী হয়ে তানায় একটি এজাহার দাখিল করেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply