ঢাকাTuesday , 29 January 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

যশোরে ইটভাটায় ২০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান: লাভের আশা ব্যবসায়ীদের

admin ঢাকা
আপডেট: 29 January 2019, 21:42

যশোর প্রতিনিধি: যশোরে ইটভাটায় ২০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তারা ছয় মাসে ৩৯ কোটি আয় করার সুযোগ পাবে। আর সরকার ভ্যাট পাবে প্রায় ৫ কোটি টাকা।
ইট প্রস্ততকারী মালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, যশোর অঞ্চলে ১২০টি ভাটা রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ভাটা ব্যবসাকে সমিতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী কোনো ভাটা মালিক মাত্রাতিরিক্ত ইট তৈরি করতে পারবেন না। কারণ লাগামহীন ইট তৈরির ফলে মান কমে যায়। মূল্যও হ্রাস পায়। এতে ভাটা মালিকরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। এ ছাড়া বাড়তি ইট পোড়াতে জ্বালানি সরবরাহ পেতে বৃক্ষনিধন করা হয়। দীর্ঘ সময় ইট পোড়ানোর ফলে পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
যশোরের ভাটাগুলোর প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ হিসেবে ১২০ টি ভাটায় এবার ৬০ কোটি ইট তৈরি করা হবে। এ জন্য মালিকরা ২৬২ কোটি ২৪ লাখ এক হাজার টাকা বিনিয়োগ করছেন। এর মধ্যে ইট তৈরি খাতে ৩৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। প্রতি ভাটায় গড়ে ১৭০ জন করে ১২০ টি ভাটায় ২০ হাজার ৪০০ শ্রমিক নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিংহভাগ শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ হিসেবে সাত হাজার শ্রমিক নারী।
সমিতির অন্তর্ভূক্ত ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী ব্রিক্সের মালিক আবদুর রশিদ জানান, শ্রমিকরা এক হাজার ইট তৈরি বাবদ পাবেন ৬৫০ টাকা। ৬০ কোটি ইট তৈরি করে তারা আয় করবেন এই ৩৯ কোটি টাকা। জ্বালানি খাতে ব্যয় হবে ১৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এক লাখ ইট পোড়াতে ২৫ টন কয়লা লাগে। এ হিসেবে ৬০ কোটি ইট পোড়াতে প্রয়োজনীয় দেড় লাখ টন কয়লার দাম টন প্রতি নয় হাজার টাকা হিসেবে ১৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রতি ভাটায় ৫০ লাখ ইট তৈরিতে মাটি প্রয়োজন সাত লাখ ১৪ হাজার ২৮৫ ঘনফুট। এই মাটি বহন করতে একটি ট্রাকের পাঁচ হাজার ৪১৪ ট্রিপ দিতে হবে। প্রতি ট্রিপের ভাড়া ৬৫০ টাকা হিসেবে ভাটা প্রতি ৩০ লাখ ৩১ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয় হবে।
এ হিসেবে ১২০ টি ভাটায় ৩৬ কোটি ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০টাকা বিনিযোগ করতে হবে। ইট পোড়ানো শ্রমিক খাতে প্রতি মাসে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা হিসেবে ছয় মাসে ভাটা প্রতি বিনিয়োগ করতে হবে ছয় লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এ হিসেবে ১২০ টি ভাটায় বিনিয়োগ হবে আট কোটি ১০ লাখ টাকা। ভাটাপ্রতি ১০ জন ডে-লেবারের প্রত্যেকে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে মজুরি পান। ১২০ টি ভাটায় ছয় মাসে এ খাতে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ইট পোড়ানোর জন্য লোডআনলোড (ভাটায় ইট সাজানো ও পোড়ানো শেষে ভাটা থেকে বের করা) কাজে প্রতি হাজার ৪০০ টাকা হিসেবে ২৪ কোটি টাকা, ভ্যাট খাতে চার কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পরিষদ ট্যাক্স খাতে নয় লাখ ৬০ হাজার টাকা, কাদা তৈরির জন্য মেশিন চালাতে প্রতি দিন ভাটা প্রতি ১০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। ৬৫ টাকা লিটার হিসেবে এর দাম ৬৫০ টাকা। এ হিসেবে ছয় মাসে ১২০ টি ভাটায় ১৪ লাখ চার হাজার টাকা এবং আনুসঙ্গিক অন্য খাতে আরো দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।
ভাটা মালিক সমিতি সূত্র এবার ব্যবসায় লাভের আশা করছে। এবার হাজার প্রতি ইটের দাম ধরা হয়েছে ১ নম্বর ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, ২ নম্বর ১৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩ নম্বর আট হাজার টাকা। ভাটায় ইট পোড়ানোর পর সাধারণত ১ নম্বর ইট পাওয়া যায় ৬০ শতাংশ, ২ নম্বর ২০ শতাংশ এবং ৩ নম্বর ১০ শতাংশ। বাকি ১০ শতাংশ ভেঙে চুরে যায়। এবার উৎপাদিত ৬০ কোটি ইটের ১ নম্বর হবে ৩৬ কোটি। এর দাম ৫৫৮ কোটি টাকা। ২ নম্বর ১২ কোটি। তার দাম ১৬২ কোটি টাকা এবং ৩ নম্বর ছয় কোটি। দাম ৪৮ কোটি টাকা। ২৬২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ছয় মাসে মুনাফা থাকবে ৫০৬ কোটি টাকা। যা যথেষ্ঠ বলে ভাটা মালিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *