ডলার নিচ্ছে না সাতক্ষীরার ব্যাংকগুলো
এসএম শাহিন আলম: সাতক্ষীরার ব্যাংকগুলোতে ডলার নিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সুযোগে কম দাম দিচ্ছে মানি চেঞ্জাররা।
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা মার্কিন ডলার। এই মুদ্রাতেই আসে রপ্তানি আর প্রবাসী আয়। আমদানি ব্যয়ও মেটাতে হয় ডলারের মাধ্যমেই। তাই টাকার বিপরীতে এর দাম নির্ধারণ এবং বাজারে ডলারের স্থিতিশীল অবস্থা ব্যবসায়ীসহ অর্থ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাতক্ষীরার সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো ডলার ক্রয় করছে না। এই সুযোগে মানি চেঞ্জাররা কম দাম দিচ্ছে ডলারের। আর এতে বিপাকে পড়ছে চিকিৎসা ভ্রমণ, শিক্ষা, ওমরা হজ্ব থেকে ফিরে আসা মানুষ। মানি চেঞ্জার বা কাব মার্কেটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। সোনালী ব্যাংকের ওয়েব সাইটে পাওয়া তথ্যমতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডলারের মূল্য ছিল ৭৮ টাকার ৫০ পয়সা, যা গতকাল ছিল ৮৪ টাকা ২৯ পয়সা (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত রেট) অর্থাৎ চলতি বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা। তবে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ডলার ক্রয় না করায় সাতক্ষীরার মানি চেঞ্জারগুলো গতকাল ডলার ক্রয় করেছে ৮২ টাকা। টাকার মূল্য কমে যাওয়ার পরিমাণের চেয়ে আলোচনায় রয়েছে ডলারের দামের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি।
গতকাল সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোন ব্যাংকই ডলার ক্রয় করছেন না। ন্যাশনাল ব্যাংকের বৈদেশিক বিনিময় শাখার কর্মকর্তা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আমরা ডলার বিক্রি করতে পারছি না, তাই কেনাও সম্ভব হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মানি চেঞ্জার বলেন, ডলার ক্রয় করে আবার আমাদের বিক্রি করতে হয়। ব্যাংকের সমান দাম তো দিতে পারব না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় বাজারে ডলার সরবরাহ হয় সাধারণত বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী, ভ্রমণ পিপাসুদের অর্থ থেকে। বিভিন্ন কারণে কয়েক মাস ধরে বিদেশ থেকে ভ্রমণ পিপাসু এবং প্রবাসী বাংলাদেশি আসার হার কমেছে। যারা এসেছে তাদের অনেকে আবার সরকারি নিয়ম মেনে ডলার পরিবর্তন না করে বেশি লাভের আশায় কাব মার্কেটে মানি চেঞ্জার-এর মাধ্যমে ডলার পরিবর্তন করছে। ফলে ব্যাংকগুলো কাক্সিক্ষত সংখ্যাক ডলার ক্রয় করতে পারছে না। সঙ্গত কারণে বিক্রিও করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের।

Leave a Reply