ঢাকাTuesday , 22 January 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় বৌমাকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ! স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি পলাতক

admin ঢাকা
আপডেট: 22 January 2019, 21:47

সমীর রায়, আশাশুনি: কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় পুত্রবধূকে আগুনে পুুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দগ্ধ প্রসূতির কোমরের নীচ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে দগদগে ঘা হয়ে গেছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ৩ ডিসেম্বর যশোরের হাড়িখালী মোড়ের রুপালী ইটভাটায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি পলাতক রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) দুুপুরে একটি ইঞ্জিনভ্যানে শরীরের দগদগে ঘা ও যন্ত্রণা নিয়ে আশাশুনি উপজেলা পরিষদে সাহায্যের জন্যে আসে আশাশুনির খরিয়াটি গ্রামের শের আলী সরদারের কন্যা জেসমিন খাতুন (১৮)।
জেসমিন জানায় ক্লাস সেভেনে থাকতে প্রায় চার বছর আগে তার বিয়ে হয় দরগাহপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর পুত্র ইটভাটা শ্রমিক নাসির উদ্দীনের সাথে। বিয়ের পর থেকে তারা শ্বশুর শাশুড়িসহ পুরো পরিবার মিলে বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করত। গত ২৮ ডিসেম্বর জেসমিন একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে। এসময় থেকেই জেসমিনের নিজের মা তার সঙ্গে ভাটায় ছিল। কন্যা সন্তান হওয়ায় শাশুড়ি বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে সংসারে ঝগড়া ঝামেলা লেগে থাকত।
ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৫ টায় রুপালী ইটভাটার বাসায় মেয়ে নিয়ে ঘরে ঢুকতেই শাশুড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে যায় । ঠিক সেই মুহুর্তেই জেসমিনের পিছনের কাপড়ে আগুন লেগে যায়। মুহুর্তের মধ্যেই তার শরীরের নীচের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শিশুটি কোন রকমে সে তার নিজের মায়ের কাছে দিয়ে আগুনে জ্বলতে থাকা জেসমিন বাঁচার আকুতি নিয়ে ছুটে বাইরে বের হলে পাশের লোকজন পানি দিয়ে আগুন নেভায়। এরপর তাকে বার্ন ইউনিটে না নিয়ে স্থানীয় একজন চিকিৎসক জেসমিনের চিকিৎসা করে।
ঘটনার পর থেকে জেসমিনের শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী তাদের ফেলে পালিয়ে যায়। অদ্যাবধি তাদের কোন খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে তারা বাড়ি ফিরে এসে টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করতে পেরে তালা হাসপাতালের ডা. রায়হানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কিন্তু প্রায় একমাস হয়ে গেলেও তার পোড়া ঘায়ের তেমন কোন উন্নতি হয়নি। কোলের বাচ্চাটাকে বুকের দুধ দেওয়া যাচ্ছে না। তাকে বিকল্প খাদ্য দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আশাশুনি উপজেলা পরিষদে আর্থিক সাহায্যের জন্য এলে শিশুটিকে বাড়িতে রেখে আসতে হয়েছে। বাবা ও মামাকে সাথে নিয়ে প্রায় ২২ কিলোমিটার পথ ভ্যানযোগে এসে জেসমিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজার সাথে দেখা করেন। তিনি জেসমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বার্ন ইউনিটে নিয়ে যেতে বলেন এবং পরিষদ থেকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত থাকা সদর ইউপি চেয়ারম্যান স,ম সেলিম রেজা মিলন তাকে এক হাজার টাকা প্রদান করেন।
জেসমিনের দিনমজুর বাবা শের আলী জানান তাকে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। আমরা ঠিক বুঝি না কোথায় তাকে চিকিৎসা করাতে হবে। কোন এনজিও অথবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যদি এগিয়ে আসে তাহলে মেয়েটাকে সুচিকিৎসা করে বাঁচাতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *