ইয়ং টাইগার্স অ-১৬ বিভাগীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা: ঝালকাঠির বিপক্ষে মেহেরপুরের ৩ উইকেটে জয়
রাইয়ান সাকিল: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মাঠে ইয়ং টাইগার্স অ-১৬ বিভাগীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় ম্যাচে ঝালকাঠির বিপক্ষে তিন উইকেটে জয় পেয়েছে মেহেরপুর জেলা দল। শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ঝালকাঠির ওপেনার জিৎ দাস ও আমিনুল ইসলাম। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৪০ রান। দিনের প্রথম উইকেটে আঘাত হানে মেহেপুরের অধিনায়ক রাশিদুল জামান। ব্যক্তিগত ১৬ রানে রাশিদুলের বলে আউট হয়ে ফেরে ওপেনার আমিনুল। এরপর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নামে তরিকুল। স্কোরবোর্ডে ১৬ রান যোগ করতেই পরপর দুই উইকেটের পতন ঘটে। এরপর ব্যাটসম্যানদের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে থাকে রাশিদুল। অন্যদিকে চাপ সামলে দলের হাল ধরে ঝালকাঠির অধিনায়ক তরিকুল। তার দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরিতে দলীয় একশো পার করে ঝালকাঠি। তবে যোগ্য সঙ্গীর অভাবে শেষ দিকে মারমুখি হয়ে উঠে এই ব্যাটসম্যান। ব্যক্তিগত ৫৭ রানে সেই রাশিদুলের বলে মোস্তাকিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তরিকুল। দলীয় ১৭৫ রানে তরিকুলের উইকেটের পর আর কোন ব্যাটসম্যান দাঁড়াতে পারেনি ঝালকাঠির। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান সংগ্রহ করে ঝালকাঠি জেলা দল। ঝালকাঠির হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করে তরিকুল ইসলাম। ৭ চারে এই অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন তিনি। মেহেরপুরের পক্ষে দুর্দান্ত বল করা রাশিদুল ৩০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করে। এছাড়া শ্রাবণ ২টি এবং নাদিম ও মোস্তাকিম ১টি করে উইকেট লাভ করে।
১৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মেহেরপুর জেলা দল। মইনুলের বলে বোল্ড আউট ফিরে যায় ওপেনার আমিন। এরপর দলীয় ৪ রানে আরেক ওপেনার আসিফের বিদায়ে রীতিমত বিধ্বস্ত হয় মেহেরপুরের ব্যাটসম্যানরা। দলের এমন অবস্থায় উইকেটে নামে শ্রাবণ। ব্যাটিংয়ে নেমেই নিজের কারিশমা দেখাতে শুরু করে এই ব্যাটসম্যান। ষষ্ঠ উইকেটে লিজনকে নিয়ে একশো রানের জুটি গড়ে শ্রাবণ। রিফাতের বলেই ব্যক্তিগত ৭৬ রানে আউট হয় এই উদীয়মান ব্যাটসম্যান। শেষদিকে মোস্তাকিমের ব্যাটে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মেহেরপুর জেলা দল। ফলে ৩ উইকেটে জয় পায় তারা। মেহেরপুরের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করে শ্রাবণ। ৮টি চার ও ১টি ছয়ে এই রান করে সে। ঝালকাঠির পক্ষে নাইমুল, মেহেদি ও রিফাত ২টি উইকেট লাভ করে। ব্যাটিংয়ের পর বল হতেও সফল অধিনায়ক তরিকুল। ৮ ওভার বল করে ২৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট শিকার করেন তিনি। খেলায় আম্পায়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন শফিকুল ইসলাম শফি এবং দেবাশীষ বসু। স্কোরার ছিলেন ফরহাদ।

Leave a Reply