তালা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরের রসের ঐতিহ্য
মনজুরুল হাসান বাবুল, খেশরা (তালা): কালের বির্বতনে তালা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরের রস। আর এর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরের রস দিয়ে তৈরি বাঙালির বাহারি রকমের খাবারের।
তালা উপজেলার গ্রামগুলোতে শীতের সকালে এক দশক আগেও চোখে পড়ত খেজুরের রসের কলসি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য। সাত সকালে গাছিরা খেজুরের রস নিয়ে বাড়ি বাড়ি হাক-ডাক দিতেন। শীতের মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলত খেজুরের রস কিংবা পাটালি-গুড় দিয়ে বানানো মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন। তবে গ্রাম-বাংলার এ দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। এর প্রধান কারণ বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ নিধন। এতে তালায় দিনে দিনে কমে যাচ্ছে খেজুর গাছ। ফলে দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রস। আর পেলেও আগের চেয়ে দশগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। আর এর ফলে বিলুপ্তি ঘটেছে খেজুরের রস দিয়ে তৈরি গুড়, পিঠা-পুলি, পায়েসসহ বাহারি খাবারের।
উপজেলার শাহপুর গ্রামের বৃদ্ধ ইউনুচ গোল্দার বলেন, কাঁচা খেজুর রসের পায়েসের স¦াদ এখনও ভুলতে পারি না। আমরা যেমন খেজুর রসের পিঠা-পুলি খেয়েছি, আমাদের নাতি-নাতনীরা তা আর খেতে পারে না কারণ খেজুর রস নেই বললেই চলে। গ্রামের মাঠে আর পথের ধারে কিছু খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের স্বাক্ষী হয়ে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছ আজ অস্তিত্ব সংকটে।
মাগুরা গ্রামের বৃদ্ধা হাসিনা বেগম বলেন, এক সময় খেজুর রসের জন্য মাগুরা গ্রাম প্রসিদ্ধ ছিল। এখন খেজুর গাছের দেখা মেলা ভার।
হরিহরনগর গ্রামের খেজুর গাছের গাছি রাজ্জাক মোড়ল বলেন, গাছ কমে যাওয়ায় এ পেশায় আর সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছি।
কৃষিবিদ মুরশিদা পারভীন বলেন, মানুষ ইট পোড়ানোর কাজে ব্যাপকভাবে খেজুর গাছ ব্যবহার করে। রাস্তার ধারের খেজুর গাছ নিধনের মূল কারণ হচ্ছে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণ। যে পরিমাণ খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয় সে পরিমাণ রোপণ করা হয় না। অথচ আমরা যদি বসত বাড়ির আশে-পাশে, মাঠের ধারে খেজুর গাছ রোপণ করি তাহলে খেজুর গাছের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভাব। খুব সহজেই খেজুর গাছ লাগানো যায়। কারণ এর বিশেষ কোন যত্নের প্রয়োজন হয় না।

Leave a Reply