কলারোয়ায় সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ চাষীরা
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নেই সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ চাষীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ভাদিয়ালী, মাদরা, বোয়ালিয়া, সোনাবাড়িয়া, দমদম চন্দনপুরসহ প্রায় ৩৮টি গ্রামে সরিষা ক্ষেতে বসানো বাক্স থেকে মৌ চাষীরা মধু আহরণের জন্য বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এই উপজেলা থেকে প্রায় ৩৫ টন মধু সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ পরিমাণ মধুর মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
এদিকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করলে পরাগায়নের মাধ্যমে ফসল ভাল হয় এটা বোঝার পর কলারোয়াসহ আশেপাশের ৩টি উপজেলার কৃষকরা সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের সংগৃহীত এই মধু রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্রি হয়। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এ মধু সংগ্রহ চলে। এসময়ে একেকজন মৌ চাষী গড়ে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মণ মধু আহরণ করতে পারেন। চলতি বছর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মৌ চাষীরা সরিষা ফুল থেকে প্রায় ৩৫ টন মধু সংগ্রহ করবেন, যার পাইকারী মূল্য ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা।
কলারোয়ায় মৌ-চাষী সাইফুল ইসলাম ও মুন্না মিয়া জানান, ৪ বছর আগে তারা ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ টি বাক্স নিয়ে মৌমাছির মাধ্যমে মধুসংগ্রহের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাক্সের সংখ্যা শতাধিক। সরিষা ফুল থেকে তিনি মাসে ২০-২৫ মণ মধু সংগ্রহ করছেন। তিনি এই মধু ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় পাইকারী বিক্রি করেন।
উপজেলা জেলা কৃষি কর্মকর্তা মহসিন আলী জানান, এ বছর ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫২ হাজার মেট্রিক টন। সরকার বারি ১৪ জাতের বীজ সরবরাহ করায় এবার ফলন ভাল হয়েছে। জেলায় ৩৫ টন মধু সংগ্রহ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মৌ চাষীরা আসায় সরিষার ফলনও প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মৌমাছি শুধু মধুই সংগ্রহ করে না ফসলের জন্য ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ মেরে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করে।

Leave a Reply