জগলুল হায়দারকে মন্ত্রী করার দাবি শ্যামনগর নাগরিক সমাজের
গাজী আল ইমরান, শ্যামনগর: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারকে মন্ত্রী করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্যামনগরের সম্মিলিত নাগরিক সমাজ। শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেবী রঞ্জন মন্ডল। লিখিত বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সংসদীয় দলের নেতা শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ সাতক্ষীরা-৪ আসনের (শ্যামনগর এবং কালিগঞ্জ আংশিক) বার বার নির্বাচিত জনবন্ধুখ্যাত সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। এসএম জগলুল হায়দার দশম সংসদে এমপি থাকাকালীন এ অঞ্চলে আস্থার প্রতীক হিসেবে জনবন্ধু খ্যাতি পেয়েছে। এই অঞ্চলটি প্রাকৃতিক সম্পদের অপর সম্ভাবনাময় একটি স্থান। দেশের সিংহভাগ বৈদশিক রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে এ অঞ্চলের সাদাসোনা খ্যাত চিংড়ি রপ্তানীর মাধ্যমে। এছাড়া বিশ্বের একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শ্যামনগর উপজেলায় অবস্থিত হওয়ায় পর্যটন ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে রয়েছে অসীম সম্ভাবনা। অথচ এই জনপদের মানুষ দীর্ঘদিন কোনো মন্ত্রীর ছোয়া পায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিএনপির ড. আফতাবুজ্জামান মৎস্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এরপর থেকে এই উপকূলের মানুষ আর কোনো মন্ত্রীর ছোঁয়া পায়নি। এই অঞ্চলের সুন্দরবনের মুন্সিগঞ্জের আকাশলীনা, গোপালপুর পিকনিক কর্নার, হরিচরন জমিদার বাড়ি, বংশীপুর শাহী মসজিদ ও বংশিপুর হাম্মাম খানাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান রয়েছে- যেটি পর্যটন শিল্প বিকাশে সহায়ক হিসাবে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এখানে একজন মন্ত্রীর ছোয়া পেলে এলাকাটি বাংলাদেশের অন্যতম স্বনির্ভর উপজেলায় পরিণত করা সম্ভব বলে মনে করি।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আবেদন রেখে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত পর্যটন শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে নাভারণ থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এ অঞ্চলের আপামর জনসাধারণের দাবি সাংসদ জগলুল হায়দারকে প্রতিমন্ত্রী করা হোক। সংবাদ সম্মেলন শেষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আকবর কবিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা এসএম জগলুল হায়দারকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেতে জোর দাবি জানান। এ সময় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার গাজী আবুল হোসেন, নওয়াবেঁকী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জুলফিকার আল মেহেদী লিটন, রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব, আতরজান মহা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিএম আমির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, সরকারি পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণনান্দ মূখার্জী, জোবেদা সোহরাব মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মুফতি মো. আব্দুল খালেক, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রাক্তন শিক্ষক রবীন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কৃষ্ণ পদ মন্ডল, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ভবতোষ কুমার মন্ডল, সদর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক দূর্গাপদ চক্রবর্তী, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি কামরুল হায়দার নান্টু, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মুঞ্জুর এলাহী খোকন, উপজেলা মহিলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেলোয়ারা বেগম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি একরামুল হক লায়েস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম সবুজ প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন, প্রেসক্লাব ও উপজেলা রিপোটর্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply