ঢাকাMonday , 31 December 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সাতক্ষীরা-২: উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, বিশ্ববিদ্যালয় ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী নান্দনিক সাতক্ষীরা উপহার দেব

admin
December 31, 2018 11:04 pm
Link Copied!

ফাহাদ হোসেন:
বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি। লেখাপড়া করেন সাতক্ষীরা পিএন বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে ক্লাস নাইনে অধ্যয়নরত অবস্থায় মহাকুমা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। ছাত্রবেলা থেকেই স্কাউট লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৩ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই প্রথম নির্বাচিত ভিপি। এ কারণে বঙ্গবন্ধু তাকে ডেকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে অংশ নিয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। প্রশিক্ষণের সময় দক্ষতার জন্য নেভাল কোর্সে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। নৌ কমান্ডো হিসেবে বিভিন্ন সময় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি।
বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন এই বীর সেনানী ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অংশ নেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও।
মনোনয়ন পাওয়ার আগে সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে নির্বাচনী এলাকাসহ সাতক্ষীরাবাসীর জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় পাঠকের জন্য তার সাক্ষাতকারটি পুনরায় প্রকাশ করা হলো।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য কাজ করছেন। জনগণ যদি সুযোগ দেয় তাহলে অবশিষ্ট কাজগুলো শেষ করতে পারবো। মাছখোলা নদীর ওপারে বিদ্যুৎ, কালভার্ট, রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জনগণ খুশি। কিছু কাজ বাকি আছে, যেগুলো করতে হবে। অতীতের সাতক্ষীরা থেকে বর্তমান সাতক্ষীরা অনেক ভাল। মানুষ নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। এলাকার মানুষ একাধিকবার অনুদান পেয়েছে। আমি নিজে প্রতিবন্ধীদের জন্য স্কুল নির্মাণ করেছি। পাশে থাকতে চেয়েছি সর্বস্তরের মানুষের। যখন যেভাবে পেরেছি মানুষের জন্য কাজ করেছি। এছাড়া ৬০টির মত নতুন রাস্তা তৈরি ও পুরাতন রাস্তা সংস্কার, ৪৫টি ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ, ২৫টির মত বাজারে সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এতসব উন্নয়ন সাতক্ষীরার মানুষের চোখের সামনে আজ দৃশ্যমান। তারা দেখছে। তাদের ভালোবাসা আমি পেয়েছি। কাজ করেছি বলেই ভালোবেসেছে তারা।
সাতক্ষীরা সদর আসনের মানুষের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, আমি একটি সুন্দর আর আধুনিক সাতক্ষীরার স্বপ্ন দেখি- যেখানে মাদক, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস, চোরাকারবারী থাকবে না। অস্থিতিশীল সাতক্ষীরা চাই না। কিন্তু কিছু মানুষ এখনো সচেতন না হওয়ায় এসব সমস্যা এখনো লেগে আছে। তবে সব দিক থেকে সাতক্ষীরা শ্রেষ্ঠ। সাতক্ষীরার মানুষ পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতার মেয়র। আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা সংসদে কয়েক বার বলেছি। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজকে কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু এখনো কোন অগ্রগতি হয়নি। এটা আমাদের জন্যে বেশি কষ্টের। আমাদের ছেলে-মেয়েরা দেশে-বিদেশে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ভালো করছে। তাদের এগিয়ে নিতে আমাদের কোন ভালো ক্রীড়াক্ষেত্র তৈরি হয়নি। এছাড়া সবচেয়ে বেশি দুঃখ শহরবাসীর জন্য, ছোটবেলায় দেখতাম প্রাণসায়ের খাল অনেক বড় ছিল। কিন্তু শহরের বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা আর বড় করা সম্ভব না। কিন্তু নান্দনিক করে তোলা সম্ভব। এটা সাতক্ষীরাবাসীর বিনোদনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে। বলা যায় যে, ঢাকার হাতিরঝিলের মত একটা প্রকল্প হাতে নেয়া যেতে পারে। সেই উদ্যোগ না নিতে পারায় আমাদের শহরের মানুষ অনেক কষ্ট পাচ্ছে। এসব ছাড়াও আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভালো করতে হবে। জেলার সাথে খুলনা আর যশোরের যোগাযোগ সহজ করতে হবে। এর জন্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রেল লাইন। আমাদের প্রাণের দাবি এই রেল লাইন। এটা আমাদের জেলাকে অনেক এগিয়ে নেবে। ভোমরা পোর্টটি অনেক ছোট। এটাও আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক দুর্ভোগের কারণ। জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ছে। এজন্য আলাদা একটা পাওয়ার প্লান্ট করার উদ্যোগ নিতে হবে। সাতক্ষীরার ছোট সড়কগুলো বড় করতে হবে। সাতক্ষীরায় একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন তৈরি করতে হবে। যা আজ সময়ের সাথে সাথে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সুপেয় পানির সরবরাহ বাড়াতে হবে। এখনো কিছু কিছু এলাকায় সুপেয় পানির বড্ড অভাব রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মত লোকের বড়ই অভাব।
সাতক্ষীরাকে মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাস ও বাল্য বিবাহমুক্ত এলাকা এবং সর্বোপরি সাতক্ষীরাকে একটি নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমার স্বপ্ন। সাতক্ষীরার আপামর জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পরিপূর্ণভাবে সেবাদান উপযোগী করে গড়ে তোলা, সাতক্ষীরার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে খানপুরে ১০০ একর জমির উপর একটি ইকোনোমিক জোন তৈরি করা, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলকে বি.এম.আর.ই করে পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার বিষয়টি পরিকল্পনার মধ্যে রাখতে হবে। এতে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠে এগিয়ে নিতে হবে পুরো জেলাকে। বিশ্বের বুকে পরিচিত হবে- সড়ক পথে সুন্দরবন যেতে হলে, সাতক্ষীরায় যেতে হবে।
মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে কোন তিনটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, প্রথমত আমি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও বেশি সহজ করতে চাই। বিভিন্ন সংকটের কারণে সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মানুষ কষ্ট পায়। এই দুটো হাসপাতাল ও সকল ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে সেবাকে সহজ করে তুলতে চাই। দ্বিতীয়ত, জেলার বেকার মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে ভোমরা পোর্টকে আরও গতিশীল করবো। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের নিয়ে ছোট ছোট শিল্প-কল-কারখানা তৈরি করতে চাই। তৃতীয়ত, সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক আর নান্দনিক শহর হিসেবে মানুষের কাছে উপহার দিতে চাই। যেন মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমি মানুষের ভালোবাসা চাই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।