রণাঙ্গনের গল্প: ভোমরায় পাক বাহিনীর সাথে টানা ১৭ ঘণ্টা যুদ্ধ হয়
dav আরিফুল ইসলাম রোহিত: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হাসানুজ্জামান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার জন্য অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে।
দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে তখন অসহযোগ আন্দোলন চলছে। আমি তখন সাতানী শেরে বাংলা যুব সংঘের সভাপতি। আমাদের আদি বাড়ি ছিল বাশদাহে। বিভিন্ন দিক থেকে ভারতে মানুষ যাওয়ার জন্য আমাদের এলাকায় আসছে। আমরা তাদেরকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছি। আর কিছুদিন পরে আমিও চলে গেলাম মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণে। ভারতের বশিরহাটের আকাশবাণী রিক্রুটিং সেন্টারে পৌঁছে রাশিয়ান একটি টিভিতে সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিভিন্ন চিত্র নিয়ে তাদেরকে বর্ণনা দিলাম।
তিনি আরও বলেন, সেখানে যোগদানের পরে ভারতের বিহারের চাকুরিয়াতে ট্রেনিংয়ে অংশ নেই। আমি সেখানে ৬নং উইং-এ ট্রেনিং নিলাম। ১ মাস ট্রেনিং করার পরে কল্যাণীতে বদলি করা হলো। সেখানে সেক্টর হেড অফিস ছিলো।
মুক্তিযোদ্ধা হাসানুজ্জামান বলেন, আমুদিয়া ক্যাম্পে ২ সপ্তাহ আসার পরে ভোমরার যুদ্ধে অংশ নেই। ভোমরার যুদ্ধ ছিলো এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টার যুদ্ধ হয়। ভোমরা যুদ্ধে পাক বাহিনীর সেনা সদস্যের লাশ আনতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন যোদ্ধা মারা গেল। সেখানে আমাদের ক্যাম্প কমান্ডার ছিলো গেরিলা ক্যাপ্টেন মাহবুব।
গেরিলা বিভাগে মোট চারজন কমান্ডার ছিলো। তারা হলো- ক্যাপ্টেন মাহবুব, শাহাদাত হোসেন, শামসুর রহমান ঢালী, নাজমুচ্ছায়াদাত। প্রত্যেকের গ্রুপে ১৩ জন করে লোক ছিলো।
হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা ভোমরা যুদ্ধ ছাড়াও মাধবকাটিতে যুদ্ধ করেছি, রায়পুরে যুদ্ধ করেছি। এসব যুদ্ধের মধ্যে মাধবকাটি যুদ্ধে আমিসহ তিন জন আহত হই। পরে ক্যাপ্টেন মাহবুব আমাদের ভারতে যেতে বলেন। সেখানে ডা. রাশেদ রেজা খান আমাদের চিকিৎসা দিলেন। পরে সুস্থ হয়ে আবারও ক্যাপ্টেন মাহবুবের সাথে মণিরামপুর যুদ্ধে গেলাম। সেখান থেকে ১৭ ডিসেম্বর খুলনায় যুদ্ধ করে স্বাধীন করলাম। পরে ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ’র হাতে সাতক্ষীরা কলেজের মিলিশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র জমা দিলাম।
উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা হাসানুজ্জামান জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন সদস্য সচিব। তিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়া গ্রামে বাস করেন।

Leave a Reply