ঢাকাMonday , 24 December 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের ফাইনালে খেলবেন শ্যামনগরের রানা

admin ঢাকা
আপডেট: 24 December 2018, 21:40

রাইয়ান সাকিল: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট, ফুটবল, বক্সিং, শ্যুটিংসহ গুরুত্বপূর্ণ যে কোন ইভেন্টেই উঠে আসে সাতক্ষীরার খেলোয়াড়দের নাম।
ক্রিকেটে সৌম্য মুস্তাফিজ এই জেলাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। পিছিয়ে নেই ফুটবলও। জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন সাবিনা, মাছুরা খাতুন, মার্জিয়া, প্রান্তিসহ দক্ষিণাঞ্চলের এই জেলার অনেক ফুটবলারই কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে চলেছেন। নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে চায় এ জেলার আরেক তারকা ফুটবলারকে।
শেখ আলমগীর কবীর রানা। শ্যামনগর উপজেলার হায়বাতপুর গ্রামের মৃত শেখ লুৎফর রহমান ও করিমুননেছার ছেলে রানার ছোটবেলা থেকেই খেলাধূলার প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল।
শ্যামনগরের জমিদার বাড়ি মাঠেই কোচ আইজুল মোল্লার কাছে ফুটবলে হাতে খড়ি হয় তার। ছোট একটি ভাতের হোটেলের আয় দিয়ে সংসার চলতো রানাদের। সংসারে অভাব অনাটন থাকলেও ছেলের ফুটবল খেলার আগ্রহকে সবসময় উৎসাহ দিতেন বাবা লুৎফর রহমান। তিন ছেলের মধ্যে মেজো ছেলে রানাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তার স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিলেও তিনি আজ পৃথিবীতে নেই। ২০০৯ সালে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া মিড ফিল্ডার রানার গোলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে সমান তালে সতীর্থদের বলের যোগান দেন এই মিড ফিল্ডার।
২০০৬ সালে স্কুল পর্যায়ে শ্যামনগর নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট হাইস্কুল থেকে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএকেএসপির সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি।
সেখানে ফুটবল প্রশিক্ষণরত অবস্থায় বিএকেসপির হয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে খেলায় অংশ নেন তিনি। ২০০৮ সালে বিকেএসপি থেকে বের হয়ে প্রথমে ঢাকা বাড্ডা জাগরণী সংসদ ক্লাবের হয়ে ১ম বিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ক্লাব খেলায় নাম লেখান তিনি। শুরু থেকে রানার অসাধারণ নৈপূণ্য নজর কাড়ে বিভিন্ন ক্লাবের। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র, ২০১০ সালে শেখ জামাল, ২০১২ ও ২০১৩ সালে ঢাকা মোহামেডান, ২০১৪ সালে আবারও শেখ জামাল এবং ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শেখ রাসেলের হয়ে খেলেছেন সাতক্ষীরার ছেলে রানা। বর্তমানে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। এছাড়াও জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন সময়ে ভারত, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, কাতার, জর্ডান, কুয়েত, তাজিকিস্তানে খেলা করেছেন এই ফুটবলার। নিজের খেলধূলার পাশাপাশি শ্যামনগরে নতুন নতুন খেলোয়াড় তৈরি করতে গড়ে তুলেছেন ফুটবল একেডেমি। বর্তমানে এ একেডেমির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশেও দাঁড়ান রানা।
তিনি বিশ্বাস করেন, কঠোর পরিশ্রমই সফলতার মূল শক্তি। কঠোর পরিশ্রম করেই তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে যেতে পেরেছেন তিনি। ফুটবল খেলার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার নাম বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে চান শ্যামনগরের এই কৃতি খেলোয়াড়।
সম্প্রতি স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলছেন তিনি। এ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের টাইব্রেকারে ৭-৬ গোলে আবাহনীকে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে তার দল। আগামী ২৬ ডিসেম্বর (বুধবার) বিকাল সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফাইনালে শেখ রাসেলের মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা কিংস। এ খেলার জন্য তিনি সাতক্ষীরার সন্তান হিসেবে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *