কলারোয়ায় সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে, দুর্যোগে ক্ষতির শংকা
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত মৌসুমের চেয়ে বেড়েছে ২০০ টন। এবার উপজেলায় তেলবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টন, যা গত মৌসুমে ছিল ৬০০ টন। কিন্তু নিম্ন চাপের ফলে গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে সরিষার ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে কলারোয়ায় পাঁচ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে বলে কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহাসীন আলী নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, এ বছর বিভিন্ন জাতের সরিষার বীজ বপন করা হয়েছে। এর মধ্যে যে জাতের বীজ বেশি বপন করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে বারি-৯, ১৪, ১৫ ও ৪, টরি-৭ ও স্থানীয় জাত। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে বারি-১৪ ও ১৫ জাতের সরিষা।
কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের কৃষক আ. অহেদ বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি চার বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। স্থানীয় জাতের তুলনায় এটির উৎপাদন বেশি হয়। স্থানীয় জাতের সরিষার বিঘা প্রতি ফলন হয় সাড়ে চার থেকে পাঁচ মণ। বিপরীতে বারি-১৪ ও ১৫ জাতের ফলন পাওয়া যায় সাত থেকে আট মণ। গত মৌসুমে এ কৃষক তিন বিঘা জমি থেকে প্রায় ২২ মণ সরিষা পান। তাই এবার আরো এক বিঘা জমিতে আবাদ বাড়িয়েছেন। প্রতি বিঘায় সরিষা উৎপাদনে তার খরচ হয় সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা।
উপজেলার এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, কলারোয়া উপজেলার প্রায় সকল ইউনিয়নে সরিষার আবাদ হয়। এ ফসলের আবাদ বেশ লাভজনক। তাই দিন দিন এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে সরিষা আবাদে আগ্রহ বাড়ছে।
তিনি আরো জানান, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন সরিষার ক্ষেতে প্রায় ১৬০০ টি বাক্স দিয়ে সরিষার সঙ্গে মৌমাছির চাষ করে মধু সংগ্রহ করে বাড়তি আয় করবেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

Leave a Reply