ঢাকাSaturday , 22 December 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

রণাঙ্গনের গল্প: পাক কমান্ডারের পায়ে দড়ি বেঁধে ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ’র কাছে নিয়ে যায়

admin ঢাকা
আপডেট: 22 December 2018, 20:24

আরিফুল ইসলাম রোহিত: বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোমেন। বর্তমানে বাস করেন সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ১৪ কি ১৫ বছর। পড়াশুনা করতেন ভবানীপুর হাইস্কুলে, অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধ শুরু হলে স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। তখন তার পিতা তাকে নিজেদের ধান ক্ষেতে কাজ করার দায়িত্ব দেন। অন্য ভাইদের সাথে তিনিও মাঠে যেতেন কাজ করতে। তবে বয়সে ছোট হওয়ায় খুব বেশি কাজ করতে পারতেন না আব্দুল মোমেন। বসে থাকতেন বিলের আইলে। হঠাৎ একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সেই মাঠের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলেন। আব্দুল মোমেনকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন- ভাই, হাকিমপুর গ্রাম কোনদিকে? আব্দুল মোমেন বললেন, এই (বাঁশদহা থেকে বৈকারী রাস্তা) রাস্তা দিয়ে সামনে গেলে কাথন্ডা বাজার, তারপরে সোনাই খাল। আর খাল পার হলেই হাকিমপুর গ্রাম। আব্দুল মোমেন বুঝতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্র যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে হাকিমপুর যাচ্ছেন। পরদিন ওই এলাকার আব্দুল লতিফ ও আবুল কাশেমের সাথে ভারতে ট্রেনিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি। এজন্য মোমেন তার এক চাচাতো বোনের থেকে তেরো টাকা হাওলাদ (ঋণ নেন) করেন, আর বাকি দু’জনের কাছে বেশ কিছু টাকা ছিল। মোটামুটি এভাবেই রওনা হন তারা।
সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আব্দুল মোমেন বলেন, ভারতে যাওয়ার কয়েকদিন আগের কথা। হঠাৎ একদিন জানতে পারলাম ঝাউডাঙ্গা বাজারে ছিয়ানব্বই গ্রাম থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার লোক শরণার্থী হিসেবে ভারতে যাচ্ছে। তারা সবাই যুদ্ধের কারণে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এই লোকজন ঝাউডাঙ্গায় আসলে আমি তাদের দেখতে যাই। তারা তখন গোবিন্দকাটি মাঠের উপর দিয়ে ভারতের সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল। আর ঠিক সেসময় পাকিস্তানের কিছু মিলিটারি যশোর ক্যাম্প থেকে ঝাউডাঙ্গায় চলে আসে। এসময় তারা ঝপঝপ করে গাড়ি থেকে নেমে এলএমজি মেশিন বসিয়েই গুলি করা শুরু করে। যেই না গুলি করেছে, সেখানেই কয়েকশ লোক মারা যায়। কারও ছোট সন্তান ছিল, কারও বা দুধের বাচ্চা ছিল। এই দৃশ্য দেখে আমি সারারাত ঘুমোতে পারিনি। এখনো সেই দৃশ্য চোখে ভাসে। এই দৃশ্যই আমাকে ব্যথিত করেছিল। আমার মনে হয়েছিল, আমাদের যুদ্ধ করে হলেও এই দেশকে মুক্ত করতে হবে। পাকিস্তানিদের অত্যাচার আর সহ্য করা যাবে না। আর এর আগে তো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণে দেশকে স্বাধীন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সাতক্ষীরা জেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের হাওয়ালখালী গ্রামের আব্দুল মোমেন আরও বলেন, তার পিতা মৃত মোসলেম আলী ছিলেন মুসলিম লীগের সমর্থক। একই সাথে তিনি ছিলেন নামকরা প্রাইমারি শিক্ষক। তবুও আব্দুল মোমেন বাড়ির সকলের অগোচরে ছাত্রলীগের মিছিলে যেতেন।
ভারতে ট্রেনিং নেওয়া ও যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ভারতের হাকিমপুরে গিয়ে দেখি সেখানে এমএলএ মমতাজ সাহেব লোক বাছাই করছেন। যাদের ট্রেনিং দেওয়ার প্রয়োজন তাদেরকেই বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ ছিলেন। আমরা গিয়ে লাইনে দাঁড়ালাম। কিন্তু আমার সাথের দু’জনকে নিয়ে নিল, আমাকে নিলো না। আমি তখন দেখতে একটু ছোট ছিলাম। তখন ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ জানতে চাইলেন বাড়ি কোথায়, পিতার নাম কি। আমি বললাম। কিন্তু এমএলএ মমতাজ বললেন, তোমার বাবা তো মুসলিম লীগ করে। তোমাকে তো নেওয়া যাবে না। আমি তখন বললাম, আমি যখন স্কুলে গান-গজল করে বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করতাম তখন তো এই কথা কেউ কখনো বলেনি যে, আমার বাবা মুসলিম লীগ করে। তখন তো আমাকে বের করে দেওয়া হতো না। ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ আমার কথা শুনে খুব অবাক হলেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি যদি একটা কাজ করতে পারো তবেই তোমাকে ট্রেনিংয়ে নেওয়া হবে। কাজটি হলো- কাঁকডাঙ্গায় খানেদের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে কতজন সৈন্য আছে, তারা কি অবস্থায় আছে, কি পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে- তা জেনে আসতে হবে। যদি পারো তবেই তোমাকে ট্রেনিংয়ে নেওয়া হবে। আমি তো রাজি। আমার প্রধান লক্ষ্যই ছিল যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা। তারা বিভিন্ন কায়দা-কানুন শিখিয়ে দিলেন। এবার আমি আবার বাংলাদেশে ফিরে আসলাম। সোজাসুজি কাঁকডাঙ্গায় না গিয়ে আমি গোবিন্দকাটি হয়ে হঠাৎগঞ্জের উপর দিয়ে কাঁকডাঙ্গা খানেদের ক্যাম্পের সামনে যখন গেলাম, তখন দু’জন খান এসে আমাকে উর্দুতে কিছু বললো। কিন্তু আমি তো বুঝতে পারলাম না। সেখানে যারা বাঙালি সহযোগী ছিল ওরা এগিয়ে এলো। জানতে চাইলো নাম কি, বাড়ি কোথায়। আমি বললাম। আমি তাদেরকে আরও বললাম, চাচা, আমার মা-বাবা ভারতে চলে গেছে। আমি তিনদিন ধরে কিছু খায় না। কিছু খেতে দিবেন। তখন খানেরা আমাকে ওদের লঙ্গরখানায় নিয়ে যেতে বললো। সেখানে আমাকে দুটো রুটি আর ডাল খেতে দিলো। একটা রুটি খেলাম, আর একটা রুটি প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে নিলাম। চারিদিকে একটু নজর দিয়ে দেখলাম কে কি করছে। দেখলাম কয়েকশ সৈন্য আছে সেখানে। আর অনেক অস্ত্র-সস্ত্র। ওই দিন মনে হয় শুক্রবার ছিলো। খানেরা সবাই অস্ত্রাগারের অস্ত্র পরিষ্কার করছিলো। আমি মোটামুটি সব দেখে বের হয়ে আসলাম। আবার গোবিন্দকাটি ঘুরে কাথন্ডা হয়ে হাকিমপুর গেলাম। আমাকে দেখে তো ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ অবাক। জিজ্ঞেস করলে, কেমন করে ফিরে আসলাম, আবার কেউ বা বললো আসলেই গিয়েছিলাম কি না। তখন আমি সেই প্যান্টের পকেটের রুটিটি বের করে দেখালাম। ওই রকম রুটিতো আর বাইরে পাওয়া যেত না। তখন তারা সবাই বিশ্বাস করলো। আর তখনই আমাকে যুদ্ধের ট্রেনিং দেওয়ার জন্যে মনোনীত করলো।
আব্দুল মোমেন আরও বলেন, হাকিমপুরে প্রায় এক মাস ট্রেনিং নিলাম। সেখানে আমাদের ইপিআর’রা ট্রেনিং দিলো। আমরা একসাথে ৪২ জনের মতো ট্রেনিং নিয়েছি। এভাবেই দিন কাটতে লাগলো। আগস্ট মাসে অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দীন সাহেব আমাদের ক্যাম্প পরিদর্শনে গেলেন। আমাদের জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করলেন। কিছুদিন বাদে আমাদের ট্রেনিং শেষ হলো। আমরা বর্ডারে ইপিআরদের সাথে পাহারা দিতাম। এরই মাঝে একদিন ৯নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল আসলেন। তিনি বললেন, এভাবে আর বসে বসে খাওয়া যাবে না। দেশে যেতে হবে। যুদ্ধ করতে হবে। তিনি পরিকল্পনা করতে বললেন।
তখন সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ। ৮নং সেক্টর কমান্ডার এম এ মঞ্জুর আমাদের পরিকল্পনা করতে সহযোগিতা করলেন। তিনি কাঁকডাঙ্গা ক্যাম্প এলাকার সলেমান সরদার ও মাহবুবের সাথে যোগাযোগ করলেন। সলেমান সরদার আর মাহবুব কাঁকডাঙ্গায় খান সেনাদের বিভিন্ন সময় খাবার দিয়ে সহযোগিতা করতো। তারা এলাকায় রাজাকার হিসেবে পরিচিত ছিলো। কিন্তু খান সেনাদের সব তথ্য মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে সহযোগিতা করতো।
পরিকল্পনা হলো আমরা বেলেডাঙ্গায় গিয়ে অপারেশন চালাবো। কারণ ওই পথ দিয়ে খান সেনাদের খাবাররের গাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হলো বেলেডাঙ্গা বাজার আর খানেদের ক্যাম্পের ঠিক মাঝখানে আমরা অবস্থান নেবো। আমরা দুই প্লাটুন সৈন্য নিয়ে বেলেডাঙ্গায় গিয়ে পজিশন নিলাম। আমি একাই খান সেনাদের সকল ফোন লাইনের তার কেটে দিলাম। যাতে তাদের সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বেলেডাঙ্গায় আসার কিছুদিন আগে মাদরা ক্যাম্প উড়িয়ে দিয়েছি। ব্রজবকসা ব্রিজ উড়িয়ে দিয়েছিলাম। কারণ আমাদের কাছে খবর ছিলো যে, ওই পথে খান সেনারা আসা যাওয়া করতো।
এদিকে, আমরা পজিশন নিয়ে বসে আছি। ঠিক ৮টা কি ৯টার দিকে খাবারের গাড়ি আসলো। সাথে কয়েকজন খান সেনা। আমাদের রেঞ্জের মধ্যে আসামাত্রই গুলি শুরু করলাম। মুহূর্তেই সবাই গুলির মুখে পড়ে মারা গেলো। আমরা তাদের গাড়ি রাস্তার পাশে নিয়ে সার্চ করলাম। বিভিন্ন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে রাখলাম। আবারও আমরা পজিশন নিয়ে বসে পড়লাম। কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই এই খবর ক্যাম্পে পৌঁছে যাবে। আর কাঁকডাঙ্গা ক্যাম্প থেকে খান সেনারা আসলে আবারও আক্রমণ করবো। সত্যিই তাই হলো। ঠিক ১০টার দিকে কিছু খান সেনা কাঁকডাঙ্গা ক্যাম্পের দিক থেকে আসলো। ওরা আমাদের পজিশন সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। তাই আমাদের রেঞ্জের মধ্যে আসতেই ফায়ার করলাম। এবারও সবকটা খান শেষ। কিন্তু আর কেউ আছে কি না বোঝা যাচ্ছিল না। তাই ওদের লাশ চেক করার জন্যে আর রাস্তায় উঠতে কেউ সাহস করছিল না। কিন্তু আমি, আজগার, ছকুমিয়া ও মতিয়ার মিলে ক্রুলিং করতে করতে রাস্তায় গিয়ে ওদের কমান্ডারের লাশের পায়ে দড়ি বেঁধে নিয়ে ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহর নিকট নিয়ে আসলাম। সেই লাশের কাছে কিছু অস্ত্র-সস্ত্র ছিলো তা নিয়ে নিলাম। এসময় ওয়ারলেসে কমান্ডার ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ ভারতে সফলতার কথা জানালেন কমান্ডার এমএ মঞ্জুরের কাছে। এদিকে ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ আমাকে বললেন, ‘মোমেন, তুমি তো অনেক কাজ করেছো। তুমি ভারতের ক্যাম্পে চলে যাও।’ আমি ক্যাপ্টেন এর কথা শুনে ভারতে চলে আসলাম।
সেদিন ছিলো ১৮ সেপ্টেম্বর। সকালে মাত্র ক্যাম্পে গিয়েছি, আবার রাতে কিছু মুক্তিযোদ্ধা আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু তারা পথ চিনতে পারছিলো না। তাই আবারও আমি তাদের সাথে বাংলাদেশে আসলাম। বলে রাখা ভালো যে, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল কাঁকডাঙ্গা ক্যাম্পকে ধ্বংস করে দেওয়া। তাই কমান্ডার এর নেতৃত্বে যোদ্ধারা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলো বেলেডাঙ্গায়।
কিন্তু হঠাৎ যশোর থেকে খান সেনাদের একটা বড় বহর বেলেডাঙ্গায় আসলো। এসময় তাদের ছোড়া একটা সেলের টুকরো ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ’র গায়ে লাগলে তিনি আহত হন। তাই ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ ভারতে চলে যান। ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ পরে বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন।
এদিকে যশোর থেকে আর্মি চলে আসায় কাঁকডাঙ্গায় থাকা ক্যাম্পের আর্মিরা সুবিধা পেয়ে গেলো। তখন ওরা আমাদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেললো। এসময় তারা চারিদিক থেকে আক্রমণ করতে শুরু করলো। তাদের ছোড়া আরও একটি সেলের আঘাতে ক্যাপ্টেন মাহবুব আহত হলেন। ক্যাপ্টেন মাহবুবও বীর বিক্রম উপাধি পেয়েছেন।
একটা ঘটনা আজও মনে দাগ ফেলে দেয়। আমাদের সাথে সুবেদার তোবারকউল্লাহ নামে একজন সদস্য ছিলেন। তাকে এই যুদ্ধের সময় ফিরোজ খান নুন নামে এক রাজাকার ঝিনেভাঙ্গার বিল পার হওয়ার সময় ধরে ফেলে। তোবারক উল্লাহর শরীর-স্বাস্থ্য ছিলো। কিন্তু তাকে এতো পরিমাণ নির্যাতন করেছিলো যে তার শরীর পুরো কালো হয়ে গিয়েছিল। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সিগারেটের আগুনের দাগ ছিলো। যুদ্ধ শেষে তাকে আমরা যখন যশোর ক্যাম্পে দেখেছিলাম তখন আমরা কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। এই যুদ্ধে খান সেনারা আমাদের চারিদিক থেকে আক্রমণ করেছিলো বলে অনেক কষ্টকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে।
এদিকে, খান সেনাদের কাছে ধরা পড়ার সাথে সাথে নায়েক শফি নিজের অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলো। কারণ সে জানতো খান সেনাদের কাছে ধরা পড়লে বিভিন্ন তথ্য নেওয়ার জন্যে তারা অনেক নির্যাতন করবে। নায়েক শফি বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন।
এদিকে সেই মুহূর্তে চারিদিক থেকে আমাদের আক্রমণ শুরু হলে সিদ্ধান্ত হলো আমাদের ভারতে ফিরে যেতে হবে। আমাদের আর টিকে থাকার মতো অবস্থা ছিলো না। তাই যে যার মতো ভারতে ফিরে যেতে শুরু করলো। আমরাও ভারতে ফিরে গেলাম। সেখানে যারা আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন আমরা অবসরে থাকলাম।
৫ ডিসেম্বর রাতে আমিসহ কয়েকজন যোদ্ধা সীমান্তে পাহারা দিচ্ছিলাম। আমি সারারাত দেখলাম জিপ গাড়িতে করে আর্মিদের সব মালামাল নিয়ে চলে যেতে। সকাল হতেই ঝাউডাঙ্গা থেকে আমাদের কাছে চিঠি আসলো যে খানেরা এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। আমিও কমান্ডারকে বললাম রাতের ঘটনা। আমরা সাথে সাথে আমাদের সকল দল নিয়ে দেশে প্রবেশ করি। সারা জায়গায় খোঁজ নিয়েও কোন খান সেনার দেখা মিললো না। এর পরে ক্যাপ্টেন মাহবুবের নেতৃত্বে কেশবপুর ও মণিরামপুরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। পরে রাজারবাগান কলেজের মিলিশিয়া ক্যাম্পে আমরা অস্ত্র জমা দিয়েছি। সেখান থেকে আমাদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। আমাকে তাদের সাথে চাকুরী করার কথা বলেছিলো। কিন্তু আমি বললাম যে, আমি পড়াশুনা করবো আর বাড়ির লোকজনও আমাকে খুঁজছিলো। তাদের সাথে দেখা করতে হবে। তাই বাড়ি চলে আসলাম।
আব্দুল মোমেন আরও বলেন, যুদ্ধে গিয়েছিলাম মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আর শান্তির জন্যে। যেন কোন মানুষ কষ্টে না থাকে। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আমাদের কোন সম্মান ছিলো না। আমরা যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি তা বলতেও ভয় লাগতো। দীর্ঘ সময় পর আমাদের সম্মান দেওয়া হয়েছে। আমরা আজ বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলা দেখার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *