ঢাকাFriday , 21 December 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

রণাঙ্গনের গল্প: বেলেডাঙ্গায় রাজাকারদের ঘাটি উড়িয়ে দিয়েছি

admin ঢাকা
আপডেট: 21 December 2018, 20:47

ফাহাদ হোসেন: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪নং ঘোনা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম। ১৯৭১ সালে ২১ বছর বয়সে যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম স্বপ্ন দেখতেন দুর্নীতিমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ। যেখানে সবাই মৌলিক অধিকার পাবে। থাকবে না দুর্নীতি। ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন দেশকে বাঁচাবার জন্য, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। মুখোমুখি যুদ্ধে পিছু হটিয়েছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে। একই সময়ে হারিয়েছেন অনেক সহযোদ্ধাকে। বিভিন্ন সময়ে শিশুসহ অসংখ্য শহীদের মৃত্যু দেখেছেন খুব নিকট থেকে। ভেঙে পড়েননি, শক্তি সঞ্চার করেছিলেন। তখন রফিকুল ইসলাম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সব কিছু ভেদ করে এগিয়ে যাবেন, মৃত্যু হলেও।
মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে বর্তমানে শহরের কামালনগরে বসবাসরত নবারুণ গার্লস হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, তখন গ্রামাঞ্চলে সবাই রেডিও শুনতো। রেডিও’র মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধের জন্য আহবান করেছেন। আমরা তখন মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করি- যুদ্ধে যাব। পরে ভারতের বশিরহাট থেকে ৫-৭ মাইল দূরে পিফা ক্যাম্পে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেই। সেখানে আমরা মেডিকেল ট্রেনিং নিয়েছিলাম এবং সীমিত পরিসরে আর্মস্ ট্রেনিংও হয়েছিল। তারপর ওখান থেকে আমরা যাই কল্যানিতে। তখন ছিল রোজার ঈদের সময়। সেখানেই আমাদের মেইন আর্মস্ ট্রেনিং হয়। ওখান থেকে আমরা হাকিমপুর আসি। সেখানে কিছুদিন থেকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নেমে পড়ি। বেলেডাঙ্গা যুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করেছি। রাজাকারদের ঘাটিও উড়িয়ে দিয়েছি।
আমি বেলেডাঙ্গা, আবাদের হাটখোলা অঞ্চলে একাধিক সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এটা ছিল আট নম্বর সেক্টর। যখন বেলেডাঙ্গায় খান সেনারা অবস্থান করে, তখন আমরা হাকিমপুর ক্যাম্পে যে ভারতীয় সাহায্যকারী বাহিনী ছিল তাদের সহায়তায় ক্যাপ্টেন মাহাবুব সাহেবের তত্ত্বাবধানে যুদ্ধ করেছি। সে যুদ্ধের একটি ঘটনা আমি কখনও ভুলতে পারি না- খান সেনাদের সাথে তখন আমাদের সম্মুখ যুদ্ধ চলছে, খানসেনারা পিছনে হটছে, এমন সময় আমাদের খুব কাছের একজন বন্ধুর গায়ে গুলি লাগে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাকিমপুর ক্যাম্পে নিয়ে আসি। কিন্তু তাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারিনি। তার মৃত্যুতে আমরা ভেঙে পড়িনি, শক্তি সঞ্চার করেছিলাম।
আরেকটা হৃদয় বিদীর্ণ ঘটনা ঘটেছিল। তখন ভারত-বাংলাদেশের বর্ডারে কোন কড়াকড়ি ছিল না। আমরা একই দেশের মত থাকতাম। বর্ডার এলাকা হওয়ায় ভাদিয়ালির লোক প্রায়ই সোনাই নদী পার হয়ে হাকিমপুর বাজারে বাজার করতে আসতো। সেদিনও সবাই নৌকায় করে বাজারে যাচ্ছে। ওরা এতো হিং¯্র ছিল যে, সেসময় নৌকার উপরেই একটা সেল ফেলে এবং একটা বাচ্চা সাথে সাথে মারা যায় এবং সবাই আহত হয়। বিষয়টা ছিল খুব বেদনাদায়ক।
তখন মনে হতো সামনে যা কিছু আসুক কোন কিছু পরোয়া করবো না, সব কিছু ভেদ করে এগিয়ে যাব মৃত্যু হলেও। আমরা দেশ প্রেমিক হিসেবে, দেশকে বাঁচাবার জন্য, বাংলার স্বাধীনতা জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। অবশেষে হানাদার বাহিনী দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতো করলাম। এবার দুর্নীতিমুক্ত করতে সংগ্রাম করতে হবে নতুন প্রজন্মকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *