Sunday, 6 September 2026

মনোনয়ন প্রাপ্তির পর ১০০ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের অভিযোগে শহীদুল আলমের সংবাদ সম্মেলন

admin ঢাকা
আপডেট: 19 December 2018, 20:24

ডেস্ক রিপোর্ট: মনোনয়ন প্রাপ্তির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় একশ’ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন। এ সময় ডা. আলম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশসহ দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থানার পুলিশ আমার বাড়ি ও নির্বাচনী অফিস ঘেরাও করে অন্তত ৫০ বিএনপি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এতে আমি নেতাকর্মী শূন্য হয়ে পড়েছি। অন্য কর্মীরা আতংকিত হয়ে পড়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ আমার অফিস ও সংলগ্ন বাসা ঘেরাও করে। এ সময় আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে পোলিং এজেন্ট মনোনয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। পুলিশ এক এক করে তাদের আটক করে মাইক্রোবাসে তুলতে থাকে। কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, ‘মামলা আছে’। কোনো রকম বাদ বিচার না করে পুলিশের গাড়িতে উঠাতে থাকায় আতংকিত নেতাকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে উপরতলায় আমার বাসায় ঢুকলে সব কক্ষেই তল্লাশি চালায় পুলিশ। তারা দরজায় লাথি মারে ও ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে। এ সময় কাগজপত্রও তছনছ করে তারা। তিনি তাদের মুক্তি দাবি করে বলেন, এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মনোনয়ন প্রাপ্তির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় একশ’ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর আশাশুনিতে বোমাবাজির একটি গায়েবী মামলা করেছে পুলিশ। এই মামলায় তাদের গ্রেফতার করে এখন বলছে, তাদের নামে অনেকগুলো মামলা রয়েছে। তিনি গ্রেফতারকৃতদের তালিকা তুলে ধরে বলেন, আশাশুনি উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও কুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, কালিগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল খালেক, জুলফিকার আলি জুলি, আছাফুর রহমান মুকুল, এবাদুল ইসলাম। এমনকি তার বাড়ির বাবুর্চি কবির ও রায়হানকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে বিভিন্ন স্থানে তার নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে। ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এখন মামলার নামে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কর্মীদের গ্রেফতার করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা এলাকায় ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এসব বিষয়ে তিনি সাতক্ষীরার রিটার্নিং অফিসারকে মৌখিক ও লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শহিদুল আলম আরও বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হয়েই তিনি একই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেশ বরেণ্য চিকিৎসক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের সাথে সাক্ষাত করেছেন। তারা দুজনেই সৎ প্রতিবেশী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি তাকেও বিষয়টি জানিয়েছি। নেতাকর্মী শূন্য অবস্থায় কিভাবে নির্বাচন করবো এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেরনে তার সাথে ছিলেন গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ও আসিফুর রহমান তুহিন নামের তিন কর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *