রণাঙ্গনের গল্প: কুশলিয়ার রাজাকার বাবুকে গুলি করে হত্যা করি
স.ম ওসমান গনী সোহাগ: বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নওয়াব আলী (৭২)। সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের নামাজগড় গ্রামের বাসিন্দা নওয়াব আলী দেশ মাতৃকার টানে অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও যুদ্ধকালীন বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তিনি সুপ্রভাত সাতক্ষীরাকে বলেন, পারিবারিক দুরাবস্থার কারণে ৫ম শ্রেণির পর আর পড়াশুনা করা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বাবার সাথে চাষবাস শুরু করি। ঠিক সেই সময়ে লোকমুখে ও রেডিও’তে শুনি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধু সবাইকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার তাগিদ দিচ্ছেন। এটা আমাকে দারুণভাবে নাড়া দেয়। আমাকে ভাবিয়ে তুলতে থাকে।
তিনি বলেন, খবর পেলাম আমাদের কালিগঞ্জে নাকি ছাত্ররা সমবেত হচ্ছে এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই কথা শুনে আমি বাড়ি থেকে কালিগঞ্জ চলে যাই। দেশকে শত্রুমুক্ত করবো, এটাই ছিল লক্ষ্য। ওখানে যেয়ে শেখ ওহেদুজ্জামান এর কাছে নাম লেখায়। তিনি আমাদের যুদ্ধকালীন কমান্ডার ছিলেন। সেখান থেকে আমাকে একটি এলএমজি হাতিয়ার দেওয়া হয়। প্রাথমিক ট্রেনিং শেষ করে কাঁকশিয়ালী নদী পার হয়ে মৌতলার দিকে আসার পথে খবর পেলাম খানেরা এক মহিলাকে গাছে বেধে নির্যাতন করছে। এ কথা শুনে আমরা কয়েকজন মিলে তাড়িয়ে এক খানসেনাকে আটক করি। তারপর তাকে টেনে নদীর পাড়ে নিয়ে যাই। তখন আমাদের ক্যাপ্টেন হুদা তাকে গুলি করে মেরে ফেলে।
এর কিছুদিন পর মেজর জলিলের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। পরে ইন্ডিয়ার হিঙ্গলগঞ্জ, টাকি, বিহার থেকে ট্রেনিং নিয়ে বারাকপুরের হাকিম, রিয়াজুল, বাবুদের সাথে কালিগঞ্জের উকশা, রতনপুর, পিরোজপুর, কুশলিয়া, মদিনার দরগাহ পার হয়ে উজুলপুর যুদ্ধ শেষ করি। একদিন কুশলিয়ার রাজাকার বাবুর সাথে উকশায় আমাদের দেখা। ওকে এ্যারেস্ট করি। একটা গাছের নিচে গর্ত করে এই রাজাকারকে পুঁতে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে পরে গুলি করে হত্যা করি। এরই মধ্যদিয়ে মুক্ত হতে থাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলে কালিগঞ্জে যেয়ে হাতিয়ার জমা দেই।
আগামীতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বসবাস করতে চাই এবং সুখী সমৃদ্ধশালী এবং সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ দেখতে চাই।

Leave a Reply