ঢাকাWednesday , 12 December 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

রণাঙ্গনের গল্প: খানেদের ক্যাম্প থাকায় বৈকারী স্কুল বোমা মেরে উড়িয়ে দেই

admin ঢাকা
আপডেট: 12 December 2018, 21:12

আরিফুল ইসলাম রোহিত: বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল মালেক। সদর উপজেলার থানাঘাটা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক সোনা ভাই নামেই বেশি পরিচিত। সোনা নামটি কবে নামের শেষে যোগ হয়েছে তা তার মনে না থাকলেও এই নামের রয়েছে অনেক তাৎপর্য।
১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় সোনা ভাইয়ের বয়স ৩৪ কি ৩৫। সাতক্ষীরা শহরের কাছারীপাড়া মোড়ে টেইলার্সের দোকান ছিল তার। অতি সাধারণ জীবন-যাপন করতেন তিনি। দেশে যুদ্ধ শুরু হলো। তবুও তিনি নিয়মিতই সকালে দোকানে আসতেন আর সন্ধ্যায় বাড়ি যেতেন। তার দোকানের সামনে ছিল গ্লোব প্রিন্টিং প্রেস। তার পাশে একটু খালি জায়গা ছিল। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন বসতো, গল্প করতো, বিভিন্ন আলোচনাও হতো সেখানে। হঠাৎ একদিন সকালে তিনি দোকানে আসছেন। মাঝপথে এসে জানতে পারলেন পুরো শহর খান সেনাদের দখলে চলে গেছে। আর কাছারী পাড়া মোড়ে দোকান ভাঙচুর চলছে। তবুও তিনি আসলেন। এসে যা দেখলেন তাতে তার সারা শরীর কেঁপে ওঠে।
কাছারী পাড়া মোড়ে একটি হোটেল ছিল। নাম মিলন হোটেল। তারা তিন ভাই। সব কটাকে ধরে উপুর্যপুরি মারধর করা হচ্ছে। মারতে মারতে সবাইকে একেবারে মেরে ফেলার মতো অবস্থা। তিনি সেই মার দেখে আর সহ্য করতে পারলেন না। খান সেনাদের প্রতি তার ঘৃণা আর বিতৃষ্ণা চলে এলো। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এই অবিচার-জুলুম আর সহ্য করা সম্ভব না। এর কয়েকদিন পরেই চলে গেলেন ভারতে। তার সাথে মোতাহার, শহিদুল, নাজমুল, কুদরত-ই-খুদাসহ বেশ কয়েকজনও গেলেন ভারতে। তাদের সবার মনে একটাই চিন্তা যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে হবে।
সোনা ভাই চলে যান হাকিমপুর। সেখানে কয়েকদিন ট্রেনিং করার পরে আসেন বিহারের চাকুরিয়া। সেখানেও আবার ট্রেনিং দেওয়া হলো। পরে আবার হাকিমপুরে। তবে মাঝে মাঝে ইটিন্ডি বর্ডারেও আসতেন তিনি। সেখানে ইপিআরদের সাথে থেকে বিভিন্ন বিষয় রপ্ত করতেন সোনা ভাই।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ট্রেনিং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন যুদ্ধকালীন ঘটনার কথা। যা তার মনে আজও দাগ কেটে যায়।
সোনা ভাই বলেন, বৈকারী স্কুল ছিলো খানেদের ক্যাম্প। বৈকারী স্কুল আমরা বোমা মেরে উড়িয়ে দিলাম। বৈকারী ইউনিয়ন কাউন্সিল অফিস আমাদের গোপন আস্তানা ছিল। সেখানে চলে যেতাম। রাতে থাকতাম বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়া শিকড়ীতেও আমাদের ক্যাম্প ছিল। সেখানেও রাত কেটেছে। ভাড়ুখালী ব্রিজ দিয়ে খান সেনারা যাতায়াত করতো বলে সেই ব্রিজটিও ভেঙে দিয়েছি। কুশখালী বিওপি অফিস বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছি। সেখানে রুহুল আমিন কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ছিল। সেটাও ভেঙে-চুরে দিয়েছি।
সোনা ভাই জানান, একবার আমরা বেশ কয়েকজন মিলে পাওয়ার হাউজ উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করি। তখন পুরাতন হাসপাতালের দিকে মিলিটারিরা ছিল। আমরা ১০-১২ জন ঘুরে পাওয়ার হাউজের পাশে গেলে কেউ আর বোমা ফিট করার সাহস পাচ্ছিল না। এসময় আমি এগিয়ে গিয়ে দুটো বোমা ফিট করে দিয়ে আসি। চৌরঙ্গী মোড়ের দিকে আসতে না আসতেই দুম দুম করে বিস্ফোরণ হলো বোমা দুটির। এর আগে স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে আসার সময় দেখি গফফার চেয়ারম্যানের ছেলে জলিল। সে রাজাকার ছিল। তাকে সেখানেই মেরে দিয়েছি।
সোনা ভাই জানান, এই সোনা নামের একটাই তাৎপর্য তা হলো- সোনা ভাই নাম শুনলে রাজাকাররা খুব ভয়ে থাকতো। যদি শুনেছে সোনা ভাই আসছে তবে এলাকার মধ্যেও একটা ত্রাস কাজ করতো।
তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা থেকে পাকিস্তানিরা চলে যাওয়ার পরে প্রথম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি শহরে প্রবেশ করি। আমি সেসময় বকচরা এলাকায় থাকতাম। আমার সাথে থাকতো লে. আসাদ। আমরা লোকজনের থেকে খবর পেতাম খানেরা চলে গেছে। আমরাও খোঁজ নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হই। আর সেসময় সাতক্ষীরায় প্রবেশ করি।
আব্দুল মালেক ওরফে সোনা ভাই জানান, একটা ঘটনা খুব কষ্ট দেয়। তা হলো আমতলার বধ্যভূমি, আমরা দেখিনি। কিন্তু শুনেছি অনেক মানুষকে মেরে সেখানে মাটি চাপা দিয়েছে পাকিস্তানিরা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কিছু মানুষ ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমতলা স্কুলে আশ্রয় নেয়। কিন্তু খান সেনারা জানতে পেরে তাদেরকে স্কুলের পিছনে নিয়ে সেখানে তাদের দিয়ে কবর খুঁড়ে তাদেরকেই গুলি করে হত্যা করে। আজও সেই জায়গাটি কালের সাক্ষী। কিন্তু তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সোনা ভাই বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমরা যুদ্ধ করেছি। তিনি শুধু চেয়েছিলেন এই দেশের মানুষের শান্তি। এই সাত কোটি মানুষের হাসি মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আজ সেই শান্তি আবার হারিয়ে গেছে। দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। আমাদের সকলকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে হবে। সবজায়গায় এখন দুর্নীতি। দুর্নীতি দেখলে আজও আমার গায়ের রক্ত গরম হয়ে যায়। আজও আমার মনে হয় সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ি। কিন্তু সেই বয়স তো আর নেই। তাই এই প্রজন্মকে দায়িত্ব নিতে হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার। সেই বাংলাদেশ হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *