ঢাকাFriday , 30 November 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ভোমরা স্থলবন্দর: প্রশাসনিক জটিলতা ও অবকাঠামোগত সংকটে গতি পাচ্ছে না বৈদেশিক বাণিজ্য

admin ঢাকা
আপডেট: 30 November 2018, 22:59

আবিদ হোসেন, ভোমরা: ১৯৯৬ সালে গুটি কয়েক পণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে ভোমরা শুল্ক স্টেশন। বিভিন্ন সময় নানা প্রতিবন্ধকতায় বার বার থমকে গেছে এ বন্দরের উন্নয়ন ও অগ্রগতি। পরে ২০১৩ সালের ১৮ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে ৪৪টি পণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমতি নিয়ে নতুন গতিতে যাত্রা করে ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক জটিলতা পিছু ছাড়েনি এ বন্দরের।
এ কারণে ৭৭টি পণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও সময়ভেদে ৩০-৩৩টির উপর আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। রপ্তানির ক্ষেত্রেও রয়েছে একই জটিলতা।
সরজমিনে দেখা যায়, পাকিস্তান আমলে নির্মাণাধীন ২টি শেডে চলছে শুল্ক স্টেশনের সামগ্রিক কার্যক্রম। এছাড়া রাজস্ব কর্মকর্তা বা সুপার পদ মর্যাদার কর্মকর্তাদের কর্মকা- পরিচালনার জন্য বসার ভাল ব্যবস্থা না থাকলেও এখানে সহকারি কমিশনার পদ মর্যদার কর্মকর্তারা কর্মরত আছেন। মোটর পার্টস, ইমিটেশন জুয়েলারির মত উচ্চ কর যুক্ত পণ্যসমূহের আমদানি ছাড় পত্র খুলনা কাস্টমস্ হাউজ থেকে গ্রহণ করা, বন্দরের জনবল সংকট, হ্যান্ডলিং উপকরণের স্বল্পতার কারণে আশানুরূপ কোন অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছে না বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বন্দর সূত্র জানায়, ৪৪টি পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর ভোমরা তথা সাতক্ষীরাবাসীর দাবির মুখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০১৮ সালের ১৭ জুলাই এসআরও (সংবিধিবদ্ধ কর নিয়ন্ত্রণ আদেশ)-২৩৭ মোতাবেক আরো ৩৩টি পণ্য ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে আমদানির অনুমতি দেয়।
কিন্তু উচ্চ কর হারের পণ্য সংরক্ষণ ও হ্যান্ডলিং এর সক্ষমতা বর্তমানে ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের না থাকা এবং খুলনা কাস্টমস্ হাউজ থেকে এসব পণ্যের আমদানি ছাড়পত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে- এই প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে এসব পণ্যের বৈদেশিক বাণিজ্য।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোমরা শুল্ক স্টেশনে যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা পদায়ন করা হলে এই জটিলতা কেটে যাবে। এই লক্ষ্যেই ভোমরা শুল্ক স্টেশনে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কাজী ফরিদ উদ্দীন যোগদান করলেও ২০১৭ সালের ৪ মে তাকে খুলনা কাস্টমস্ হাউজ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সধারণ সম্পাদক মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, ভোমরা স্থল বন্দরের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে জমি অধিগ্রহণ হলো বড় বাঁধা। ভোমরা বন্দরের উন্নয়ন করতে হলে প্রথমে কাস্টমস্ হাউজের উন্নয়ন করতে হবে। একই সাথে ভোমরা বন্দরের বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দরের আশানুরূপ উন্নয়ন না হওয়াটাও বড় সমস্যা। অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এই বিষয়ে আমরা বাণিজ্য সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, অতিরিক্ত ৩৩টি পণ্য আমদানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় যুক্ত হলেও তার কোন সুফল লাভ করা যাচ্ছে না। উচ্চ কর হারের পণ্য সংরক্ষণ ও হ্যান্ডলিং এর সক্ষমতা ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের না থাকা এবং খুলনা কাস্টমস্ হাউজ থেকে আমদানি ছাড়পত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকায় আমদানিকারকরা ভোমরার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন না। ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ উচ্চকর হারযুক্ত পণ্যের আমদানি ছাড়পত্র ভোমরা শুল্ক স্টেশন থেকে পাওয়া গেলে ভোমরা বন্দরের উন্নয়ন সম্ভব। প্রয়োজনে জেসি বা যুগ্ম কমিশনার পদ মর্যদার কর্মকর্তাকে পুনরায় ভোমরা শুল্ক স্টেশনে পদায়ন করতে হবে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের সহকারি কমিশনার সাগর সেন জানান, ভোমরা শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামোগত সংকট প্রকট। রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উচ্চ করহার যুক্ত পণ্যের আমদানি ছাড়পত্র কাস্টমস্ হাউজ থেকে দেওয়া হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এই বন্দরটি রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
ভোমরা স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ভোমরা স্থল বন্দরের উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আরো ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের চাহিদা মোতাবেক ইকুইপমেন্ট হ্যান্ডলিং এর ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।
বর্তমানে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে যেসব পণ্য আমদানিকৃত হচ্ছে: ফল, পাথর, পিয়াজ, রসুন, আদা, চাল, খৈল, শুটকি মাছ, মাছ, হলুদ, পান, তেঁতুল, শুকনা কুল, শুকনা মরিচ, স্যান্ড স্টোন (শিলপাটা), মার্বেল চিপস, বল ক্লে, ফায়ার ক্লে, চায়না ক্লে, সোডা পাউডার, কোয়ার্টজ, পটাস ফেল্পসপার।
এছাড়া বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে যেসব পণ্য আমদানি করা হয়: গম, ভুট্টা, কাঁচা মরিচ, তুলা, কয়লা, রাসায়নিক সার।
বছরে ২-৩ বার যেসব পণ্য আসে: জিরা, আগরবাতি, জুতার সোল, ফিটকিরি।
অনুমোদন থাকার পরেও প্রশাসনিক জটিলতায় নিম্নলিখিত পণ্যসমূহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে না: গবাদিপশু, মাছের পোনা, গাছ গাছড়া, বীজ, কাঠ, টিম্বার, চুনা পাথর, মশুর ডাল, তাজা ফুল, গমের ভুষি , চাউলের গুড়া, সয়াবিন কেক, মসলা, মোটর পার্টস, স্টেইনলেস স্টীল ওয়্যার, রেডিও টিভি পার্টস, মার্বেল স্লাব, তামাক ডাটা, এ্যালুমিনিয়াম এর টেবিল ওয়্যার ও কিচেন ওয়্যার, এডহেসিভ, তাজা সবজি, ধনে, ফ্লাই এ্যা, গ্রানুলেটেড স্লাগ, তিল, সরিষা, রেডিমেড গার্মেন্টস, ইমিটেশন জুয়েলারি, সুপারি, হার্ডওয়্যার গ্রানাইট স্লাব ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *