ঢাকাFriday , 16 November 2018
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

কলারোয়ায় কুমড়ার বড়ি তৈরির ধুম

admin ঢাকা
আপডেট: 16 November 2018, 22:23

ডেস্ক রিপোর্ট: শীতের মৌসুমে অন্যরকম আমেজে দেশের প্রতিটা গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন কর্মব্যস্ততার মাঝে সময় পার করেন।
গ্রামাঞ্চলের নারীরা বিভিন্ন মৌসুম খাদ্য তৈরিতে বেশ আনন্দদায়ক ব্যস্ত সময় পার করেন। তেমনই দৃশ্যপট দেখা গেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার গ্রামের নারীদের মাঝে।
গ্রামাঞ্চলের নারীদের কাজ বেড়েছে কুমড়া বড়ি দেয়ার জন্য। ভোর সকালে ঘাষের ডগায়, ধানের শীষে শিশির ভেজা মুক্তকনা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
পৌষ-মাঘ শীতকাল। তবে এর আগে থেকে শীত শুরু হয় এবং শেষ হয় কিছুটা পরে। যদিও এখনো পুরোদমে শীত শুরু হয়নি। তবে শীতের আগমনী বার্তায় কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কুমড়া বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে।
কুমড়া বড়ি তরকারির একটি মুখরোচক খাদ্য উপাদন। এতে তরকারির স্বাদে যোগ হয় আরেক নতুন মাত্রা।
কলারোয়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার শতশত নারীরা কুমড়া বড়ি তৈরির কাজে মনোযোগী হয়েছেন। শীত আগমনের সাথে সাথে কুমড়া বড়ি তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে প্রায় প্রতিটি গ্রাম অঞ্চলের নারীদের মাঝে। বর্ষাকাল ব্যতীত বাকি মাসগুলোতে কমবেশি কুমড়া বড়ি তৈরি করা হয়। আশ্বিন মাস থেকে ফাল্গুন এই ৬ মাস কুমড়া বড়ি তৈরির সময়। অবশ্য শীতকাল এর ভরা মৌসুম। এ সময় গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে কমবেশি এ বড়ি তৈরি করা হয়। অনেকেই পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বাজারে বিক্রিও করে থাকেন। শীতের সময় কুমড়া বড়ির চাহিদা থাকে বেশি। সেই সুযোগে গ্রাম অঞ্চলের নিম্নবিত্ত নারীরা বাড়তি আয়ের জন্য এটা তৈরি করে বাড়তি উপার্জন করেন। ওই বড়ি বানানোর প্রধান উপকরণ মাসকলাই আর চালকুমড়া, সাথে সামান্য মসলা।
চলতি মৌসুমে বাজারে প্রতি কেজি মাসকলাই ৭০-৮০ টাকা আর চাল কুমড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাইজ হিসাবে চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বেচাকেনা হয়। ৪-৫ কেজি চালকুমড়ার সাথে ২ কেজি মাসকলাইয়ের মিশ্রণে কুমড়া বড়ি ভাল হয় বলে জানান গ্রামের নারীরা।
প্রথমে মাসকলাই রৌদ্রে শুকিয়ে যাতায় ভেঙ্গে পরিস্কার করে কিংবা না ভেঙ্গে পানিতে ভিজিয়ে রেখে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হয়। প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘন্টা এ কলাই পানিতে ভেজাতে হয় বলে জানান কুমড়া বগি তৈরিতে অভিজ্ঞ নারীরা। তারপর ঢেকি বা শিল-পাটা বেটি নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়। তবে এলাকার বেশ কিছু অঞ্চলে এর মেশিন স্থাপনের পর থেকে সবাই মেশিনে মাড়াই করে মাসকলাই ও কুমড়ার মিহি করার জন্য। যদিও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেশিন না থাকায় নারীদের হাতে তৈরি করতে হয় কুমড়া বড়ি। দুইটি উপকরণের সংমিশ্রণে তৈরিকৃত কুমড়া বড়ি মাঠ, বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা খোলা জায়গায় ভোর থেকে রোদে বড়ি বসিয়ে সন্ধ্যার দিকে উঠানো হয়। বিভিন্ন রংয়ের পাতলা কাপড়ে সারি সারি বড়ি বসানোর দৃশ্য দেখতেও দারুণ লাগে। ওই কুমড়া বড়ি বসানোর পর কয়েক দিন একটানা রৌদ্রে শুকানো হয়। সূর্যের আলো কম হলে ৫-৭ দিন পর্যন্ত লেগে যাওয়া শুকানো বড়ি কাপড় থেকে উঠিয়ে অন্য পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।
কথা হয় গয়ড়ার গৃহিনী আয়শা আক্তারের সাথে সাথে। তিনি জানালেন, ৪-৫ কেজি কুমড়ার সাথে দুই কেজি মাসকলাইয়ের মিশ্রণে কুমড়া বড়ি ভাল তৈরি হয়। মাসকলাই পানিতে ভিজিয়ে পরিস্কার করা, আর ঢেকিতে বা পাটায় বেটে বড়ি তৈরি করতে প্রচুর পরিশ্রম হয়, এমনকি অনেক সময়ও লাগে। তবুও আমাদের এই শীতের সময় বেশ ভালো লাগে এই কাজ করতে।
তাছাড়া, অনেকেই বাড়তি উপার্জনের আশায় বাজারে বিক্রিতে মৌসুমের প্রথম থেকেই কুমড়া বড়ি তৈরি করা শুরু করে দেন। স্বাদ ও মানের দিক থেকে বাজারে বিক্রি হওয়া বড়ির তুলনায় নিজেদের তৈরিকৃত বড়ি ভালো হয় বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবারের চাহিদা মেটাতে কষ্ট হলেও অনেকেই তৈরি করছে যেটার সুযোগ শহরঞ্চলের মানুষদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না বলে মনে করেন গ্রামাঞ্চলের অনেকেই।
এদিকে এখন খোসা ছাড়ানো মাসকলাই বাজারে ক্রয় করতে পাওয়া যায়। মাসকলাই পানিতে ভিজিয়ে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করে অল্প সময়ের সংমিশ্রণে বড়ি তৈরি খুব সহজ হয়। যেসকল এলাকায় মেশিনে তৈরি করা হয় তাদের একটু পরিশ্রম কম এমনটাই মনে করছেন গ্রামাঞ্চলের অনেক নারী। মেশিনের সাহায্যে কম কষ্টে অল্প সময় প্রচুর পরিমাণ বড়ি তৈরি করা সম্ভব হয়ে থাকে। এক কেজি কুমড়া বড়ি তৈরি করতে প্রায় ১১০-১২০টাকার মত খরচ হয়। আর বাজারে ২শ থেকে আড়াই’শ টাকা দরে বিক্রি হয়।
এতে নিম্নবিত্ত মানুষদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় করা সম্ভব হয় বলেও জানান কলারোয়া ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার কুমড়া বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত একাধিক নারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *