নিজস্ব প্রতিবেদক : ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরায় র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সুরক্ষিত বিশ্ব, নিশ্চিত স্বাস্থ্য” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় সিভিল সার্জন অফিস হতে এক বর্ণাঢ্য র্যালি আরম্ভ হয়ে খুলনা রোড মোড় প্রদক্ষিণ করে সিভিল সার্জন সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। র্যালিতে নেতৃত্ব প্রদান করেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার। র্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার পুলক চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে বর্তমান মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর। সুস্বাস্থ্যর জন্য সকলকে খাদ্যে ভেজাল রোধে এগিয়ে আসতে হবে। জেলায় বায়ু দূষণ এবং পরিবেশ দূষণে সকলকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি তাই এটা বর্জনে এখনই পদক্ষেপ নিতে আহŸান করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রদত্ত লিফলেট হতে জানা গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবার পরিবেশগত দূষণ ও এ সংক্রান্ত রোগ বালাই যেমন হৃদ্রোগ, হাঁপানি, ক্যান্সার ইত্যাদি হতে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার প্রত্যয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং কল্যাণকর একটি সমাজ গড়ে তোল উপর গুরুত্বারোপ করে তিনটি পর্যায়ে করণীয় তুলে ধরেছেন।
সরকারিভাবে যে সমস্থ কার্যক্রম করা যেতে পারে সেগুলো হলো-জ্বালানি নীতিমালা তৈরি করা-যেন নবায়নযোগ্য পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা যায়, পরিবেশ দূষণকারীদের সচেতনতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইনস বাস্তবায়ন করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে হাসপাতালসমূহ বিদ্যুতায়িত করা, তামাক ব্যবহার রোধে ধূমপানমুক্ত দেশ গড়ে তোলা, প্লাষ্টিকসহ সকল বর্জ্য কমানোর জন্য নীতিমালা বাস্তবায়ন করা, গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণে ভূমিকা রাখা। স্বাস্থ্যকর্মীরা যা করতে পারেন সেটা হলো- সঠিকভাবে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জলবায়ু সহিষ্ণু রাখা।
ব্যক্তি পর্যায়ে করণীয় সপ্তাহে একদিন পায়ে হেঁটে অথবা বাইসাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে যাওয়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা, প্রক্রিয়াজাত খাবার না কিনে স্থানীয় তাজা খাবার গ্রহণ করা, ধূমপান ও তামাক সেবন বন্ধ করা, প্লাষ্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা, খাবারে লবণ কমানো, পানীয়তে চিনির পরিমাণ কমানো এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ও নিরাপদ পানি পানের উপর বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। সিভিল সার্জন অফিসের জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার শাহানারা খাতুনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঔষধ প্রশাসন সাতক্ষীরার তত্ত¡াবধায়ক মীর আব্দরু রাজ্জাক, জেলা কৃষি ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন অর রশিদ, সুশীলনের সহকারী পরিচালক জিএম মনিরুজ্জামান, বরসা’র সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম মুন্না, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি এএসকে আশরাফুল মাশরূদ, প্রভার মাস্টার ট্রেইনার রেহানা পারভীন ও সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপার ভাইজার শেফালী সরকার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতাল মেডিকেল অফিসার (আয়ুর্বেদিক) ডা. পার্থ কুমার দে, সদর হাসপাতাল মেডিকেল অফিসার (হোমিওপ্যাথি) ডা. মো. সাইফুল আলম, সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আবু হেনা, লাইট হাউজ সাব ডিআইসি ম্যানেজার মো. সনজু মিয়া, প্রভার পরিচালক শাম্মি আক্তার কুমকুমসহ নার্সিং কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য-কর্মী এবং বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিগণ। সভার শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিসেস এন্ড ইমুনাইজেশ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আমানত উল্লাহ ভিডিও প্রোজেক্টের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
