নিজস্ব প্রতিনিধি : আমন ধানের বীজতলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আশাশুনির কৃষকেরা। বৃষ্টি নির্ভর এ ধানের চাষ আশাশুনির বড়দল, কুল্যা, দরগাহপুর, বুধহাটা, খাজরা, আনুলিয়া ইউনিয়নে বেশি হয়ে থাকে। এ বছর চাষের আগে ভালো বৃষ্টির জন্য কৃষকরা নেমে পড়েছেন বীজতলা তৈরিতে। তবে কিছু কিছু বিলে জলাবদ্ধতার কারণে বীজতলা তৈরিতে বিলম্ব হচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের অবৈধ নেট-পাটা অপসারণে এগিয়ে এলে বীজতলা তৈরি সময় মত হয়ে যাবে বলে মনে করেন চাষিরা।
আশাশুনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান জানান- উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়ে থাকে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বড়দল ইউনিয়নে। উপজেলায় কৃষিকাজে সম্পৃক্ত আছেন ১১৯৮৯ জন চাষি। এরমধ্যে ৮৮৯ জন নারী ও ১১১০০ জন পুরুষ। ভূমিহীন চাষি রয়েছে ২২০ জন, প্রান্তিক চাষি আছেন ৩৭০৪ জন, ক্ষুদ্র চাষি ৬৯০৭, মাঝারি চাষি ১০২৭সহ অন্যান্য চাষিরা রয়েছেন।
বর্তমানে কিছু কিছু জায়গায় মাঠে চাষ দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে বীজ বপন করা হবে। বপনের ৩৫ দিন পর থেকেই ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আমরা ৩০০ জন প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বড়দল ইউনিয়নের আমন ধান চাষি এসএম শরিফ জানান- বড়দল
এক ফসলি ফসলের ইউনিয়ন। কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের বিলে বীজতলা তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে। উপজেলার বেশিরভাগ খালগুলোতে অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহের গতিরোধ করে প্রতিবছর কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করা হয়। প্রতি বছর প্রায় দুইবার করে আমাদের বীজতলা প্রস্তুত করা লাগে। মহামারির এই দুর্দিনে অল্প খরচে যাতে আমাদের ফসল ঘরে তুলতে পারি সেজন্যে আগেভাগেই উপজেলার ধান চাষের এলাকার খালগুলির অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
