সমীর রায়, নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রলয়ংকরী আম্ফান যেতে না যেতে আবার এসে গেলো ঘূর্ণিঝড় যশ। আশাশুনির প্রতাপ নগর ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ১২ কি.মি. বেড়িবাঁধ নড়বড়ে অবস্থায় থাকায় ইউনিয়ন জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুরের জোয়ারে ইতোমধ্যে প্রতাপ নগরের কুড়িকাহনিয়া গ্রামের কপোতাক্ষ নদের রিং বাঁধের কানায় কানায় পানি উঠেছে। তাতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ইতোমধ্যে সুভদ্রাকাটি ও কুড়িকাহনিয়া গ্রামে কপোতাক্ষের পানি ছাপিয়ে লোকালয়ে ঢুকলেও বড় কোন ক্ষতি হয়নি। আজকের (বুধবার) ভরা পূর্ণিমা ও যশ এর প্রকোপে নদীর জোয়ার আরও বৃদ্ধি পাবে। তাহলে উপক‚লীয় অঞ্চলের নড়বড়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর উত্তাল ঢেউয়ের পানি আটকানো যাবে কি না এ প্রশ্নে মানুষের মুখে মুখে। স্থানীয় বাণভাষীদের ক্ষোভ ঘুরে ফিরে সেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি সময় থাকতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন যদি বাঁধ গুলি মেরামত করে আরও উঁচু করে নির্মাণ করতো তাহলে বারবার আমাদের এ ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িকাহনিয়া গ্রামের গড়ইমহল খালের মাথা থেকে শ্রীপুর গ্রামের দৃষ্টিনন্দন গ্রাম পর্যন্ত প্রায় কপোতাক্ষ নদের প্রায় দেড় কি.মি. বাঁধ, সুভদ্রাকাটী গ্রামের সোহরাব সানার বাড়ী থেকে জনাব সরদারের বাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১ কি.মি, রুইয়ারবিলে বাঁধে কাজ চললেও ৭০০ ফুট রাস্তা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ, চাকলা থেকে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৪ কি.মি. বাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া হরিশখালী, বন্যতলা ও মাদারবেড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৬ কি.মি. বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও রাব্বি হাসান এ প্রতিবেদককে জানান- ঘুর্ণিঝড় যশের কারনে নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় আশাশুনির প্রতাপনগরের কুড়িকাহনিয়া ও সুভদ্রাকাটি গ্রামের বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে পানি ঢুকেছে। সেখানে আমরা কাজ শুরু করেছি। এছাড়া আশাশুনি সদরের মানিকখালী ব্রিজের নীচে ছাপানোর সম্ভবনা থাকায় আমরা কাজ করছি। আমরা নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ গুলো টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি এবং সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের সাহায্য নিয়ে অতিরিক্ত জনবল লাগিয়ে বাঁধ মেরামতে কাজ করে যাচ্ছি।
এদিকে, প্রলয়ংকরী আম্ফানে বিধ্বস্ত প্রতাপনগরের ৩ নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ ইব্রাহিম গাজী জানান- শ্রীপুর গ্রামের হাসেম গাজী, ইয়াকুব গাজী, আমিরোন, সুখদ্দী, প্রতিবন্ধী রওসনআরাসহ প্রায় ৩০ টি পরিবার তাদের বসত ভিটা হারিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে বিগত এক বছর হলো। আবার আম্ফানের পর নতুন ওয়াপদা উঠে নুতন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ঋষিপল্লীর সুকুমার দাশ, তৃপ্তি দাশসহ তাদের ১২টি পরিবার। এছাড়া কাশেম মোড়ল,নফর গাজীসহ আরও ৭টি পরিবার এখনো সেই চরেই বসবাস করছেন। বসত ভিটা হারিয়ে নাকনা আশ্রয়ণ প্রকল্পে উঠেছে এই গ্রামের আরও প্রায় ৪টি পরিবার। ৯ নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ আব্দুল মাজেদ জানান- নাকনা (পূর্ব) চরে ওয়াপদার গাঁ ঘেঁষে এখনো প্রায় ৪০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
