সমীর রায়, নিজস্ব প্রতিনিধি : আশাশুনিতে চাঞ্চল্যকর কলেজ ছাত্র চন্দ্র শেখর হত্যা মামলার ঘাতক মোবাশ্বেরকে (২২) ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম কবীর। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাকে বৈকরঝুটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিহত চন্দ্র শেখরের ব্যবহৃত মোবাইল, সিম, লুঙ্গি ও জুতা উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতক মোবাশ্বের ওই গ্রামের মজিদ মোড়লের ছেলে। প্রেমঘটিত কারণে এ ঘটনাটি সে ঘটিয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে তাকে জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ জানান- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবাশ্বের চন্দ্রশেখর কে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক চন্দ্রশেখরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শোভনালী এসডিএফ গ্রাম সমিতির কার্যালয়ের পাশে একটি ডোবার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লুঙ্গি ও জামা উদ্ধার করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫শ’ গজ দুরে বাবুর মৎস্য ঘের থেকে এবং মোবাইলের সিমটি উদ্ধার করা হয় গ্রামের একটি রাস্তার পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায়। প্রেমঘটিত একটি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সে স্বীকার করেছে। ভিকটিম ও ঘাতক দুজনে পরস্পরের বন্ধু। ঘটনার রাতে সে চন্দ্রশেখরের মৎস্য ঘেরের বাসায় গিয়ে তার সাথে গল্পগুজব করার এক পর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গলা টিপে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। এরপর সে বাসা থেকে ভিকটিমের লাশ গুম করতে মৎস্য-ঘেরের ডাল-পালার ভেতরে উলঙ্গ করে লুকিয়ে রাখে। এরপর সে নিহতের লুঙ্গি, জুতা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ঘেরের বাসায় তালা ঝুলিয়ে চলে যায়। ৬০ হাজার টাকা দিলে চন্দ্রশেখরের খোঁজ দেবে বলে সে সকালে নিহতের বাবার কাছে ম্যাসেজ করে। ফোনের সূত্র ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হলে এক পর্যায়ে মোবাশ্বের নিজেই হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত. সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শোভনালী গ্রামের নিজের মৎস্য ঘের থেকে ভাসমান অবস্থায় বৈকরঝুঁটি গ্রামের শংকর সকারের একমাত্র ছেলে কলেজ পড়–য়া চন্দ্রশেখরের (২২) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় ২৩(১০)২০ নং একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই ঘাতককে ধরতে ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম কবীর সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন।
