মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : চুরি ঠেকানোর কৌশল হিসেবে মৎস্য ঘেরে দেয়া বিদ্যুৎতের ক্যাবলে জড়িয়ে রমজান আলী (১৬) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাটি গ্রামের ‘মোড়ল ফিস’ নামীয় সাদা মাছের একটি প্রজেক্টে এ ঘটনা ঘটে।
সেই দিন থেকে মৎস্য প্রজেক্টে চুরি ঠেকানোর কৌশল ও অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ লাইনে জড়িয়ে মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিহতের পরিবার সাথে মিমাংসা করানোর চেষ্টা চালায় প্রকল্পের মালিক সামিউল ইসলাম। বিষয়টি মিমাংসার জন্য বিভিন্ন ভাবে নিহতের পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।চাপ প্রয়োগের একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে ৫ই (সেপ্টেম্বর) শনিবার নিহত রমজানের পরিবার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শোকের আলীর মধ্যস্থতায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মাধ্যমে মিমাংসা করেছে বলে জানা যায়।
টাকা নিয়ে মিমাংসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের পিতা শুকর আলী তিনি বলেন, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় মিমাংসা করেছি এক লাখ টাকা পেয়েছি বাকি ৬০ হাজার টাকা চেয়ারম্যান ফোন দিলে নিয়ে আসব।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোবাহান গাজী জানান, ইউনিয়ন পরিষদে বসে চেয়ারম্যান শোকর আলীর মাধ্যমে ঘের মালিকের সাথে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় মিমাংসা হয়।এক লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয়ে ছিল এপযন্ত জানি।
তবে টাকা দিয়ে মিমাংসা হয়ছে বিষয়টি চেয়ারম্যান শোকের আলী অস্বীকার করে বলেন, নিহত রমজানের ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিষয়টি মীমাংসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকল্পটির অফিস রুম থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরের পুকুরগুলোতে বাঁশ দিয়ে ক্যাবল টেনে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। রাতে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মুহুর্তে একই ক্যাবল ব্যবহার করে মটর চালিয়ে মাটির তলদেশ থেকে পানি উত্তোলন করা হয় পুকুরগুলোর জন্য। ক্যাবলের কভার ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি উঁচু করে না দেয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে প্রজেক্ট সংশ্লিষ্টদের ও বিদ্যুৎ বিভাগকে লিখিত অভিযোগে দিয়ে বার বার দৃষ্টি আকর্ষণ সত্ত্বেও প্রতিকার মেলেনি।
এরপর থেকে ঘটতে থাকে একের পর এক দুর্ঘটনা।মোড়ল ফিস নামীয় ঐ প্রকল্পে বিদ্যুৎতের তারে জড়িয়ে সম্প্রতি আবুল হোসেনর একটি গরু মারা যায়। কয়েক দিন পুর্বে স্থানীয় সুবোল মন্ডলের স্ত্রী সুনীতি মন্ডল ঘাস কাটতে যেয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হলে তার একটি আঙুল হাত থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হয়। এক বছর পুর্বে ঐ প্রকল্পের একটি পুকুরের পাশ হতে আরও এক ব্যক্তির মৃতদেহ আবিস্কার করে স্থানীয়রা। প্রতিনিয়ত এধরণের দুর্ঘটনাকে রহস্য জনক বলে মনে করেন এলাকাবাসী। সমস্ত দুর্ঘটনা থেকে টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা অন্য দিকে বিদুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে এধরনের অপরাধ মূলক কাজ সংগঠিত হচ্ছে ।শ্যামনগর থানার ওসি তদন্ত ইয়াছিন আলম চৌধুরী বলেন, মিমাংসার বিষয়টি আমরা জানিনা তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জের নিকট অরক্ষিত লাইনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে হবে এটা আমি বলতে পারব না। শ্যামনগর জোনাল অফিসে জানতে চাইলে মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, এটা অফিসে এসে কথা বলতে হবে ফোনে এসব কিছুই বলা যাবে না।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, পল্লী বিদ্যুতের কিছু অসাধু কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত ঘটছে এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা। প্রভাবশালীরা প্রকল্প মালিকের পক্ষ নিয়ে নিহতের পরিবারের সাথে টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করাটা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার।
