নিজস্ব প্রতিনিধি : শ্যামনগরের সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ ও মাছ ধরার মৌসুমে পাস-পারমিট সচলের দাবি নিয়ে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জেলে-বাওয়ালিরা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালীতে সাধারণ জেলেদের আহŸানে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন ও জেলে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছবেদ আলী গাজী। বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ডালিম কুমার ঘরামী, আবিয়ার গাজী, শেফালী বিবি, নজরুল গাজী, নুরুল আমিন মোড়ল, শহীদুল গাজী, সিরাজুল গাজী, শরীফুল ইসলাম, দিদার বক্স, শাহ পরাণ, রুবেল হোসেন, মহিবুল্লাহ, ইয়াসিন বিল্লাহ, জুলফিকার গাজী প্রমুখ। সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ডালিম কুমার ঘরামী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ের কথা বলছেন তখন কেউ কেউ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলে পেশা ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। অথচ এই মৌসুমে ঠিকই সুন্দরবনের ভারত পাড়ে জেলেরা কাঁকড়া আহরণ করছে। তিনি অবিলম্বে জেলেদের কাঁকড়া আহরণ মৌসুমে পাস পারমিট চালু করার দাবি জানান। মুখে মাস্ক বেঁধে শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানববন্ধন ও জেলে সমাবেশে উপক‚লের মানুষরা জেলে বনজীবীদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহŸান জানান। এ সময় বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুন্দরবন উপক‚লের মানুষ করোনা পরিস্থিতি সাথে বুলবুল সুপার সাইক্লোন আম্পান উপদ্রæত হয়ে চরম দুর্দশায় পড়ে। এর সাথে কাঁকড়া আহরণের ভরা মৌসুমে জেলেদের পাস-পারমিট বন্ধ করায় জেলেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। ফলে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ার কারণে তাদের সাথে তাদের পরিবারগুলো পড়েছে খাদ্যাভাবে। বনজীবী নারী শেফালি বেগম বলেন, সুন্দরবনের পাস বন্ধ থাকার কারণে আমরা খুব কষ্টে আছি। নদী ভাঙনে আমাদের ঘের ভেড়ি শেষ করে দিয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসে যে ক্ষতি হয়েছে, তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাস বন্ধ থাকার কারণে। এখন আমাদের অনাহারে দিন কাটতে হচ্ছে, এখন ঈদের সময় ছেলে মেয়েদের জন্য কোন কিছু কিনে দিতে পারছি না। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি আমাদের পাস পারমিট দিতে হবে সুন্দরবন প্রবেশের। মানববন্ধন ও জেলে সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মামুনুর রশীদ সুমন, মহিউদ্দিন মাহমুদ, আশিকউজ্জামান সবুজ, জালাল হোসেন, আব্দুর রহমান, রাজু হোসেন, সেলিম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, শামীম হোসেন, আবু রেহান, মোমিন হোসেন।
