ডেস্ক রিপোর্ট : যশোরের মনিরামপুরে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বর কর্তৃক রাইচ মিল দখলের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় স্ব-পরিবারে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন শ্যামনগরের আবাদচন্ডিপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের পুত্র আব্দুল করিম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে যশোর মনিরামপুর থানার কাশেমপুর গ্রামের রাইচ মিল চাতাল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলাম। কিন্তু গত ৮ মে ব্যবসায়িক তাগাদা করার জন্য আমি কুষ্টিয়া যায়। সেখান থেকে ফিরে এসে দেখি রইতা ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী সরদার, মেম্বর আমিনুর হোসেন শিল্পী, মোশারাফ হোসেন মোড়লের পুত্র তৌফিক মোড়ল, ইছাক মোড়লের পুত্র মোক্তার মোড়ল, রাজ্জাক দপ্তরির পুত্র মতিয়ার রহমান, এজাহার আলী সরদারেরপুত্র নুনু সহ ১৫/২০ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার রাইচমিলসহ, গরু, ছাগল, হাঁস মুরগি, আসবাবপত্র দখল করে নেয়। সবমিলিয়ে প্রায় ৮/১০লক্ষ টাকার মালামাল সেখানে রয়েছে। দখলের পর তারা আমাকে সেখানে না যাওয়ার জন্য মোবাইলে হুমকি দিচ্ছে।
এবিষয়ে বাড়বাড়ি করলে খুন, গুম ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষয়ক্ষতি করবে। আমি তাদের ভয়ে ভিতু হয়ে ওই রাতে সেখানে না গিয়ে পালিয়ে থাকি এবং গোপনে আমার স্ত্রী সন্তানকে সেখান থেকে নিয়ে আসি। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আমার লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ গরু ছাগল তারা নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। অথচ উক্ত ব্যবসা পরিচালনা করতে ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চড়া সুদে আমার ঋণ নেওয়া আছে। তিনি আরো বলেন গত ১৩/৫/২০২০ তারিখে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এ ঘটনায় একটি সংবাদ সম্মেলন করি।
সম্মেলনের বিষয়টি অবগত হয়ে চেয়ারম্যান আনছার আলী ও মনিরামপুরের কাশেমপুর গ্রামের আফজাল হোসেন মোড়লের পুত্র শওকত হোসেন, এরশাদ আলী কোলুই এর পুত্র তাহের, ইদ্রিস আলী মোড়লের পুত্র মন্টু গং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুন জখমসহ বিভিন্ন প্রদর্শন করে বলছেন,“তোকে স্ব পরিবারে শ্যামনগর থেকে তুলে নিয়ে কেটে টুকরা টুকরা করে নদীতে ভাসিয়ে দেবো, তুই যেখানে থাকবি সেখান থেকে তুলে এনে খুন করবো ইত্যাদি”।
একদিকে রক্তপানি করা টাকা লুটপাট করে নিলো প্রতিকারের দাবি করায় খুন জখমের হুমকি অব্যাহত রেখেছে ওই সন্ত্রাসীরা। এই করোনা পরিস্থিতিতে সর্বশ্ব হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। অন্যদিকে জীবন নাশের হুমকি-ধামকিতে অতীষ্ট হয়ে উঠেছি।
আমি বর্তমানে ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভ‚গছি। ওই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে আমার সম্পদ উদ্ধার এবং জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে সাতক্ষীরা ও যশোর পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
