নিজস্ব প্রতিনিধি: গর্ভবতী মায়েদের প্রসব-পূর্ব ও পরবর্তী সেবা, শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবার-পরিকল্পনা শিক্ষা ও পরামর্শ প্রদানের লক্ষে গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া লোকজনদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাননীয় প্রধামমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। সেই থেকে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা অতিক্রম করে আজ স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে সফল ও মডেল কর্মসূচি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সেই কমিউনিটি ক্লিনিককে উঠিয়ে দেবে বলে হুমকি প্রদান করেছেন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন।
বুধবার (১৩ মে) সকালে চাম্পাফুল ইউপি’র চান্দুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জেসমিন সুলতানার মুঠো ফোনে এ হুমকি প্রদান করেন চেয়ারম্যান। এর পাশাপাশি জোরপূর্বক তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকটিতে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস পূর্বে মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ারে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় গত ৫ মে। পরীক্ষায় যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়েবুরর রহমান। কিন্তু চাম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইনের পছন্দের লোকদের নিয়োগ না হওয়ায় তিনি গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেন।
এক পর্যায়ে বুধবার (১৩ মে) সকালে চাম্পাফুল ইউনিয়নের চান্দুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ফিল্ম স্টাইলে চেয়ারম্যান মোজাম’র ইন্ধনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ওই এলাকার সুভাষ সরকারের ছেলে হিরণ এবং তার গ্রæপের সদস্যরা। সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
চাম্পাফুল ইউপি’র চান্দুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জেসমিন সুলতানা মুঠো ফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান, প্রতিদিনের ন্যায় সকাল ৯ টার দিকে তিনি ক্লিনিকে যেয়ে দেখেন ওই ক্লিনিকে দুইটি বড় তালা ঝোলানো। এরপর তিনি ক্লিনিকের সভাপতি ইউপি সদস্য গণি গাজীকে বিষয়টি অবহিত করেন। তার পরামর্শে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট ফোন দিলে চেয়ারম্যান মোজাম হুমকি প্রদান করে বলেন, আমরা ক্লিনিক সেবা চাই না ক্লিনিক উঠিয়ে ফেলব।
এসব বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইনের কাছে ফোন দিলে তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের জায়গা দানকারীর ছেলের চাকরি হয়নি তাই তালা মারা হয়েছে। তবে আমরা ক্লিনিক সেবা চাই না, ক্লিনিক উঠিয়ে ফেলব এরকম কথা আমি বলিনি।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়েবুর রহমান জানান, যদি কোন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বা অন্য কেউ কোন অপরাধ করে তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে এভাবে তালা মেরে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করা উচিত হয়নি। ক্লিনিকে তালা মারার ব্যাপারে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিব।
