মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ শেখ বাড়ির মোড়, আবাদচন্ডিপুর খোসালখালিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মবহির্ভূত মুরগির ফার্ম গড়ে ওঠায় প্রচন্ড দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পবিত্র মাহে রমজান মাসে সারাদিন রোজা থেকে নিরূপায় হয়ে এই দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত। বাংলাদেশে দিনদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ঠিক সেই মুহ‚র্তেই কিছু অসাধু মুরগি ফার্ম মালিকরা বেশি লাভের আশায় পরিবেশে ছাড়পত্র না নিয়ে অবৈধভাবে যেখানে সেখানে মুরগির ফার্ম গড়ে তুলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ‘মুন্সিগঞ্জের গ্যারেজ টু নওয়াবীকে সড়কের আবাদচন্ডিপুর খোসালখালি গ্রামের ঢালিবাড়ি চৌরাস্তার পাশে মাসুদ জামাল তার অবৈধ মুরগির ফার্ম গড়ে তুলেছে এছাড়া মুন্সিগঞ্জ শেখ বাড়ির মোড়ে আব্দুল করিম কোনরকম নিয়মের তোয়াক্কা না করেই করে তুলেছে পোল্ট্রি ফার্ম। ওই পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে পথচারী সহ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রহমান গাজী জানান, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা দুর্গন্ধে ভুগছি। ফার্মের মালিককে বার বার বলেও কোন প্রতিকার পায়নি বরং উল্টে আমাকে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে। ছেলেমেয়েরা পোল্ট্রি ফার্মের পাশের রাস্তাদিয়ে যাতায়াত করার ফলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রোগে আকান্ত হচ্ছে। এমন নানাবিধ সমস্যার মধ্যে ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে আমাদের’।
পথচারী আবুল হাসান জানান, ‘প্রতিনিয়ত আমরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয়’। স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা ও আব্দুল সাত্তার জানান, ‘মুরগির ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় বসবাস করা খুবই দুরূহ হয়ে পড়েছে। ছেলেমেয়ে নিয়ে কষ্টেই জীবন যাপন করতে হচ্ছে’।
এ বিষয়ে ফার্মের ম্যানেজারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি তারপরও দুর্গন্ধ ছড়ায় আমরা কি করব’।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বিকাশ বাবু বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী মহোদয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে স্যার বললে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।
তবে ওই এলাকার মাসুম নামের এক বাসিন্দা জানান, ‘উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে তিনি স্থানীয় প্রতিনিধিদের জানানোর কথা বলেন। মুন্সিগঞ্জ ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম পল্টুকে বিষয়টি জানানো হলেও পোল্ট্রি ফার্ম মালিক আব্দুল করিমকে আবাসিক এলাকায় এই ব্যবসা থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। এতেও তারা কোনো গুরুত্ব না দিয়ে ফার্মের সীমানা আরো বৃদ্ধি করেছেন। পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মান ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
