ঢাকাFriday , 20 March 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

দেবহাটায় করোনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি: উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৫৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে


March 20, 2020 12:11 am
Link Copied!

মীর খায়রুল আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি: সারা বিশ্বব্যাপী এখন মহামারি আতঙ্ক ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তি ও তাদের সংস্পর্শে আসা কিছু ব্যক্তি করোনা সংশয়ে রয়েছে। আর এই ভাইরাসটি যাতে তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। তবে এই ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা আর সতর্কতার বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এজন্য দেশের বাইরে থেকে কেউ আসলে অবশ্যই ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টোইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তারা।

কারোর শরীরে করোনার লক্ষণ অনুভব হলে হাসপাতালে এসে পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এছাড়া এ ভাইরাস থেকে থেকে রক্ষা পেতে বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার কাপড় পরিধান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। করোনা ঠেকাতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। সাথে সাথে বিভিন্ন কর্র্মকান্ড বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সকলকে আইন ও নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা মাইকিং করেন উপজেলা প্রশাসন। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোয়ারেন্টাইন খোলা হয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এর বাহিরে বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হোটেল, চায়ের দোকান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনটাইম প্লেট, গøাস ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বিদেশ থেকে আসা ৫৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছেন উপজেলা প্রশাসন। এরমধ্যে ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে যাত্রীরা সীমান্ত জুড়ে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নি¤œমানের হওয়ায় তাদের সংশয় কাটছে না বলেও অভিযোগ করেন অনেকেই। তবে, বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কোন বাংলাদেশী ভারতে প্রবেশ করতে না পারলেও ভারতীয় যাত্রীরা বাংলাদেশে আসছেন সহজেই। এমনকি ভারতীয় অনেক নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আতœীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছে। এতে অনেকটাই বাংলাদেশীরা করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

অন্যদিকে সীমান্তের বিভিন্ন চোরই পথে যাওয়া আসা বন্ধ না হলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয় বলেও দাবি এলাকাবাসীর। এছাড়া যাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাদের অনেকেই নি¤œ পরিবারের সদস্য হওয়ায় টানা ১৪দিন বাড়িতে অবস্থান করায় অনাহারে দিন পার করার পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তৈরি করা তালিকায় সখিপুর ইউনিয়নে ২১ জন, কুলিয়া ইউনিয়নের ২৭ জন, পারুলিয়া ইউনিয়নে ৮ জন, নওয়াপাড়া ইউনিয়নে ২ জন ও সদর ইউনিয়নে এক জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণিও। বৃহস্পতিবার দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. আব্দুল লতিফ ও পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দেয়া তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে ক্রমশ হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে সখিপুরে ও কুলিয়া ইউনিয়নে সর্বাধিক বিদেশ ফেরত মানুষদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার ঘটনায় ইউনিয়ন দুটিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সখিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতনের দেয়া তালিকা অনুযায়ী যাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তারা হলেন, দক্ষিণ সখিপুরের আব্দুল মজিদের ছেলে জামাল হোসেন, একই গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে ওমর আলী, পরেশতুল্যার ছেলে ইয়াকুব আলী, ইয়াকুর আলীর ছেলে হাফিজুল ইসলাম, ভাদ্রশ্বরের ছেলে মধু মন্ডল, শামছুরের মেয়ে রেহানা খাতুন, সন্যাসী দাশের ছেলে মধুদাস, পাঁচপোতা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে ইমাম হোসেন, মাঝ সখিপুরের শফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল, একই গ্রামের আজিবরের ছেলে আরিফ হোসেন, আকবরের ছেলে আল আমিন, মৃত বশির গাজীর ছেলে আব্দুল মাজেদ ওরফে মান্তা হাজী, মাঘরী গ্রামের মৃত. আবুল কালামের ছেলে আব্দুর রব লিটু, একই গ্রামের দিনালী গাজীর ছেলে সাবুর আলী, চন্ডিপুরের আনার আলীর ছেলে গোলাম রসুল, মাঘরী গ্রামের মাজেদ মোড়লের ছেলে ফজলুর রহমান, জাফর শেখের ছেলে জলিল শেখ, উত্তর সখিপুরের তরফতুল্যাহ গাজীর ছেলে শরিফুজ্জামান পলাশ, রবিউল ইসলামের ছেলে রাকিব হোসেন ও আব্দুল হামিদের স্ত্রী মাহফুদা বেগম।

এদের অধিকাংশই সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে এসেছেন। আর বাকীরা মালদ্বীপ, জর্ডান, সৌদি আরব ও দুবাই ফেরত প্রবাসী। এদিকে কুলিয়া ইউনিয়ন থেকে যে ২৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে থেকে পুষ্পকাটির মোক্তারের ছেলে আনারুল, তার ছেলে জাকির হোসেন, আয়ুব লষ্কারের ছেলে শাহিন হোসেন, খাসখামারের নুরনবী সরদারের ছেলে ফিরোজ হোসেনসহ কুলিয়া ইউনিয়নের আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল কাদের, ফেরাজতুল্যার ছেলে রশিদ, বিষ্ণুর স্ত্রী ও পুত্র, বিমল সরকারের ছেলে ইন্দ্রজিত সরকার, আব্দুর রাজ্জাক, মৃত এরকান নিকারীর ছেলে আদর আলী, হাছিনা খাতুন, শওকাতের ছেলে মিলন, মোহাম্মাদ আলী, রেহানা খাতুন, মৃত নুর ইসলামের ছেলে রাজিবুল্যাহ, জব্বার সরদারের ছেলে আল আমিন, সুফিয়া খাতুন, মৃত ইমান আলীর ছেলে জমাত ড্রাইভার, আকলিমা খাতুন, নাছিমা খাতুন, রতœা পারভীন ও আজিজের ছেলে বাবু’র নাম পরিচয় নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম। নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান জানান, তার ইউনিয়নে দুই জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ভারত থেকে সম্প্রতি দেশে আসা দেবহাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গণি ও চীন থেকে দেশে আসা

গরানবাড়ীয়া গ্রামের হাফেজ নজরুল ইসলামের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা। দেবহাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী জানান, তার ইউনিয়নের আজিজপুরে সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে আসা শাকিলা খাতুন নামের এক নারীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে আসা সেকেন্দ্রা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, একই গ্রামের ভারত থেকে আসা শহিদুল ইসলামের ছেলে তুহিন হোসেন, ভারত থেকে আসা উত্তর কোমরপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম, কেনিয়া থেকে আসা মাঝ পারুলিয়ার গোলাম মোস্তফার মেয়ে মারুফা খাতুন, কানাডা থেকে আসা মাঝ পারুলিয়ায় গোলাম সরদারের মেয়ে মেহেরুন নেছা, ভারত থেকে আসা উত্তর পারুলিয়ার সুকুমার রজকের ছেলে সৌরভ, সিঙ্গাপুর থেকে আসা নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কাজেম হাজীর ছেলে মাসুদ রানা ও দুবাই থেকে আসা দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের এরিম বক্সের ছেলে হাফিজুল ইসলামকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

ভোমরা ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই বিশ্বজিৎ কুমার জানান, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া আসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভারতের নাগরিক আসা বন্ধ না হওয়ায় সংশয় রয়েছে। তবে সীমান্তের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও জোরদার করা হলে কিছুটা হলেও নিশ্চিত হওয়া যাবে। দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. আব্দুর লতিফ জানান, ‘প্রাথমিক ভাবে তালিকা করা হয়েছে তাদের উপর নজর রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে। যদি কোথাও কোন সন্দেহভাজন মনে হয় তাহলে সাথে সাথে হাসপাতালে এসে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে’।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিন জানান, ‘করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা মাইকিং করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানদের বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের তথ্য দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। যদি কেউ নিয়ম ভঙ্গ করেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা কোন ব্যক্তি ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদেরকে জেল জরিমানা করা হবে। ভারত থেকে আসা ব্যক্তি এবং মালামালের গাড়িও সংশ্লিষ্টদেরকে সঠিক ভাবে করোনা শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।