শ্যামনগর প্রতিনিধি: সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলো থেকে অবৈধ ভাবে প্রতিনিয়ত পারশে মাছের পোনা ধরা হচ্ছে। সরকারিভাবে এই রেনু ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছে না কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আহরণ কারীরা। সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান এর সহযোগিতায় কাশিমাড়ীর নাজমুল ও বুড়িগোয়ালিনীর হালিম সহ কয়রা ও চোরা মুখা এলাকার একাধিক ব্যক্তির ট্রলার প্রতি ৩০ ত্রিশ হাজার টাকার চুক্তিতে ঝাঁপালি, ঘোলা, কয়রা ও জোড়শিং এলাকার সেট গুলোতে অবৈধ ভাবে ধরে আনা পারশে পোনা গুলো বিক্রি করেন বলে জানা যায়। অবৈধভাবে পারশে মাছের পোনা আহরণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে আছেন বলে জানান স্থানীয় জনগোষ্ঠীরা। সূত্রমতে জানা যায়, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রতিটি ট্রলার প্রবেশের অলিখিত অনুমতির জন্য আগাম টাকা নিয়ে বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া টোকেন দেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বন বিভাগের এক কর্মকর্তা। এছাড়া প্রতিবার পোনা নিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করলে ট্রলার প্রতি দিতে হবে আরও দশ হাজার টাকা যা মৌখিকভাবে চুক্তি রয়েছে। এভাবে পারশের পোনা আহরণ মৌসুমে স্থানীয় ফরেস্ট স্টেশন, টহলফাড়ি সহ এই কাজে সংশ্লিষ্টদের সাথে জেলেদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়ে থাকে বলে জানাযায় । জেলেদের সূত্রে জানা যায়, অবৈধ পোনা আহরণকারীরা দাদনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে থাকেন। এরপর তারা বনবিভাগ থেকে মাছধরা বা অন্য কোনো পাশ নিয়ে একাধিক দ্রæতগামী ট্রলার নিয়ে নিষিদ্ধ বন অঞ্চলে প্রবেশ করে পোনা আহরণ শুরু করে। প্রতিদিন ভোর হতেই শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের ঝাঁপালি, নীলডুমুর, গাবুরা চেয়ারম্যানের ঘাট সহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে আহরণ করা এই পারশে মাছের পোনার হাট বসতে দেখা যায়। হাটে প্রতি কেজি পারশে মাছের পোনা ৩ শ থেকে ৩শ ২০ টাকা বিক্রি করা হয় বলে জানাযায়। অবৈধভাবে পারশে মাছের পোনা আহরণের সাথে জড়িত ও ব্যবসায়ী শ্যামনগর উপজেলার ঝাঁপালি গ্রামের নাজমুল ইসলাম এর সাথে কথা তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকার ঘের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে এ ব্যবসা করে থাকি। এটা অবৈধ ব্যবসা হবে কেন, আমিতো কুড়ি বছর ধরেই এই কাজ করছি। এসময় অবৈধভাবে পারশে মাছের পোনা আহরণ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিছু বলে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে কিছু বলবে কেন আমিতো কোনো খারাপ কাজ করছি না। এবিষয়ে নীলডুমুর বনবিভাগের স্টেশন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের সামনে পড়লে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এরপর তিনি আর কথা বলতে রাজি না হয়ে ফোন কেটে দেন।
