ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা শহরে সুব্রত বিশ্বাস নামের এক প্রতারক বাড়িসহ জমি পুবালী ব্যাংকে গোপনে ৩৫ লাখ টাকায় বন্ধক রেখে সেই একই জমি এক সরকারি কর্মকর্তার নিকট বিক্রির নামে ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া খুলনার জিয়াউল হক নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ওই একই জমি বিক্রির নামে আরো ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে তিনি একই জমি দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
প্রতারক সুব্রত বিশ্বাস সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা পূর্বপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথের ছেলে। জানা যায়, সাতক্ষীরা সুলতানপুর মৌজার ১০৮, ১০৯ ও ১১৫ নং এস.এ খতিয়ানের ১৭৪, ১৭৫ নং দাগের জমি হতে উদ্ভ‚ত ২২৭ নং আর.এস খতিয়ানের ৪১৭ নং দাগের ৬.৬০ শতক জমিসহ একটি বাড়ি বিক্রয়ের জন্য সুব্রত বিশ্বাসের সাথে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত সহকারী ইন্সট্রাক্টর ইয়াছিন আলীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। সুব্রত বিশ্বাস বাড়ি বিক্রির নামে বিভিন্ন সময়ে ওই সরকারি কর্মকর্তার কাছ সর্বমোট ২৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং সুব্রত বিশ্বাস তার নিজ নামিয় পুবালি ব্যাংক, সাতক্ষীরা শাখার একটি চেকও ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের সামনে এফিডেভিট মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হন। পরবর্তীতে জমিসহ ওই বাড়ি রেজিস্ট্রি করার কথা বললে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে জানা যায় তিনি ওই একই জমি দেখিয়ে আগে পুবালি ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখা থেকে ৩৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। এদিকে, খুলনার জিয়াউল হক তার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নেয়ার ঘটনায় তিনি আদালতে তার নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত সহকারী ইন্সট্রাক্টর ইয়াছিন আলী জানান, ব্যাংকে জমি বন্ধক রাখার কথা জানতে পেরে আমি তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমি উক্ত চেক দিয়ে আদালতে এন আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করি। মামলা নং-সি আর-২৪৯/১৯ সেশন-১১৪৬/১৯। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি আরো জানান, গোপনে তিনি এ সব টাকা নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, খুলনার জিয়াউল হক জানান, সুব্রত বিশ্বাস প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এসব টাকা ভারতে পাচার করে দিয়ে বর্তমানে তিনি সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন।
