শ্যামনগর অফিস : শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ৫ নং পোল্ডারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ নদীভাঙন এলাকায় অবৈধভাবে বেড়ীবাঁধ কেটে পাইপ বসানোর ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়। গত ৩ ডিসেম্বর শ্যামনগর পওর শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহানাজ পারভীন ৩ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে বিবাদী করে শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় শ্যামনগর থানার এস আই আইনুদ্দীন ওই দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পান। দারোগা ঘটনাস্থলে যাওয়ায় বিবাদীরা এসও শাহানাজ পারভীনকে ম্যানেজ করে। এ বিষয়ে শাহানাজ পারভীন এর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বিবাদীদের এবারের মতো ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি থানায় এজাহার দেইনি শুধুমাত্র একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম। তারা তাদের পাইপ উঠিয়ে নিয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নদী ভাঙন ক‚লে পাইপ বসানো ছিল। ইতিপূর্বে ওই ভাঙন ক‚লে হায়দার আলী নামে এক ব্যক্তি বেড়ীবাঁধ কেটে পাইপ বসানোর সময় ছবি সহ একাধিক দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের এর নির্দেশে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহানাজ পারভীন শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্যামনগর থানার এস আই রাজ্জাককে নির্দেশ দেন। মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় এস ও শাহানাজ পারভীন মামলাটিও আলোর মুখ দেখতে দেয়নি। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবুল খায়ের এর মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও মোবাইল ফোনটি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য দাতিনাখালী ৫ নং পোল্ডারে ভয়াবহ নদীভাঙন এলাকায় ইতিপূর্বে সরকারী ও বে-সরকারীভাবে বাঁধ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ টাকার কাজ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতের পর দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী উপক‚লীয় বেড়ীবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে দ্রæত ভাঙনকৃত বেড়ীবাঁধ সংস্কারের জন্য নির্দেশ দেন। যার কারণে সম্প্রতি সরকারীভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু ভর্তি জিও বস্তা ফেলানো হয়েছে। ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস ও মাসুদ রানা ঝড়ের রাত্রে জিও বস্তা ফেলে কোন রকমে বাঁধ রক্ষা করেন। বর্তমানে সেখানে বেড়ীবাঁধ ভেঙে মাত্র ৮-১০ ইঞ্চি রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যে সেই এলাকায় বেড়ীবাঁধ কেটে ওভার পাইপ বসানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে সমগ্র উপজেলার উপক‚লীয় বেড়ীবাঁধে আনু: ৩ শত ওভার পাইপ অবৈধভাবে বসানো আছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবুল খায়ের জানান, সবে মাত্র কৈখালী ইউনিয়নে বেড়ীবাঁধে অবৈধভাবে ওভার পাইপ বসানোর জন্য ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধভাবে বসানো সকল পাইপ মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তাছাড়া বর্তমানে কেউ বেড়ীবাঁধ কর্তন করে পাইপ বসানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হবে। অথচ সম্প্রতি বেড়ীবাঁধ কেটে পাইপ বসানো হলেও তার কোন প্রতিকার নেই। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকার সুশীল সমাজ যথাযথ তদন্ত দাবি করেছেন।
