ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার শ্যানগরের একই পরিবারের সবাই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে স্থানীয় পূজা মন্দির কমিটির সভাপতিসহ সাধারণ জনগণকে জিম্মিকরে চাঁদাবাজি, জুলুম ও নির্যাতন চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন, উপজেলার মানিকখালী গ্রামের ভুক্তভোগী সুভাষ চন্দ্র মন্ডল। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, শ্যামনগরের ভেটখালী গ্রামের আল মামুনসহ তার দুই পুত্র আব্রাহাম লিংকন ও লিমন সর্বোচ্চ ৫ম শ্রেনি থেকে ৬ষ্ট শ্রেনি পাশ করে তারা তাদের পরিবারের তিন জনই সাতক্ষীরার তিনটি স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে সংসার চালাচ্ছেন। তাদের এই চাঁদাবাজির হাত থেকে মানিকখালীর সার্বজনীন পূজা মন্দিরও রেহাই পাচ্ছে না। সম্প্রতি সাংবাদিক পরিচয়ধারী চাঁদাবাজ আব্রাহাম লিংকন মন্দিরের গাছ কাটা নিয়ে কমিটির সভাপতি সুভাষ মন্ডলের কাছে কৈফিয়াত তলব করে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। সভাপতি তাকে বলেন, মন্দির কমিটি রেজুলেশন করে গাছ কেটেছে। এছাড়া হাইকোর্টের ২২৭১/১৬ নং রিট মামলার আদেশে এই মন্দিরটি সার্বজনীন মন্দির হিসেবে উল্লেখ করে আদেশ দিয়েছেন। এক পর্যায়ে আব্রাহাম বলেন, তাকে টাকা না দিলে পত্রিকায় নিউজ করবেন এবং অনুমোদিত কমিটিকে অবৈধ কমিটি উল্লেখ করে নিউজ করবেন বলেও হুমকি প্রদান করেন। এছাড়া সাংবাদিক পরিচয়ে মন্দির ও প্রতিমা সম্পর্কে অশ্লীল কথা বলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেন। শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান তাদের এহেন অপকর্মের বিরোধিতাও করেন। তারা ভেটখালী এলাকার নৌ পুলিশ, ফরেস্ট ও কোস্ট গার্ডে খবরদারি করে সুন্দরবনের বিভিন্ন উৎস থেকে নিয়মিত চাঁদাও আদায় করে থাকেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনের জেলে বাউলিদের সুন্দরবনের ভিতরে যেতে হলে এই গ্রæপকে চাঁদা দিতে হয়। টাকা না দিলে নিউজ হয় আর টাকা দিলে নিউজ হয় না। জেলে বউলিরা এসব সাংবাদিকদের মাসোহারা দিয়ে সুন্দরবনে যান। ভেটখালী বাজারে দোকান ঘর মেরামত করতে হলেও তাদের টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে উপজেলা প্রশাসনকে দিয়ে হয়রানি করা হয়। তিনি আরও বলেন, এমন কোন খাত নেই যেখান থেকে তারা চাঁদা নেন না। এমতাবস্থায় তিনি উক্ত চাঁদাবাজি পরিবারের দৌরতœ কমিয়ে সংখ্যালঘু পরিবার ও অসহায় জেলে বাউলিসহ সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে পত্রিকাগুলোর সম্পাদকসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
