শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কাচিহারানিয়া গ্রামের মো. আহমেদ শেখের ছেলে আব্বাস আলী শেখের বিরুদ্ধে। গত ২বছর ধরে বিভিন্ন মেয়াদে ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রায় ৫৩ জন ব্যক্তির থেকে (গ্রাহক প্রতি) ২৫শ’ থেকে ৩হাজার টাকা নিয়েছে বলে জানায় ভুক্তভোগীরা। ইতোপূর্বে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি কারও। অজানা কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে ভুক্তভোগীরা আরও আব্বাস আলীর চাপের মুখে পড়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ; ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার সারা বাংলার প্রতিটি ঘরকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার মধ্যে দু’টি উপজেলাকে ইতিমধ্যে শত-ভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করেছে। বাকি ৫টি উপজেলাকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শত-ভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা মহল সরকারের এই উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। কাচিহারানিয় এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী কালিপদ মন্ডল জানান, ‘আব্বাস আলী গত দু’বছর আগে কারেন্টের মিটার দেওয়ার নাম করে আমার থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু মিটার ও দিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। একই এলাকার মৃত সাকাত আলী গাজীর ছেলে লুৎফর রহমান জানায়, কারেন্ট দেওয়ার নাম করে গত এক বছরেরও ঊর্ধ্বে আব্বাস আলী আড়াই হাজার টাকা নিয়েছে। এখনও কারেন্ট দেয়নি। আব্বাস আলীকে বারবার বলছি, তবে সে বলছে ‘শীতকালে কারেন্ট কি করবা’? ভোলানাথ মন্ডলের স্ত্রী দীপালি জানান, ‘মিটারের জন্য আব্বাস শেখের কাছে এক বছর আগে ৩ হাজার টাকা দিয়েছি, এখনও আমরা কারেন্ট পাইনি।’ মুজিবর নামে অপর এক বিদ্যুৎ প্রত্যাশী ব্যক্তি জানান, ‘আমার বাড়িতে দু’টি মিটারের জন্য ৫ হাজার টাকা নিয়েছে আব্বাস শেখ। পরে বিদ্যুতের খুঁটি হতে আমার বাড়ি পর্যন্ত সার্ভিস তাঁর টানানোর সময় আরও পাঁচ শত টাকা নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানায়, ‘আব্বাস আলীর কাছে বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ টাকা দিয়েছি দেড় বছর হলো। কিন্তু এখন বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে হুমকি দিয়ে বলে এরকম টাকা মেরে দেয়ার ক্ষমতা আমার আছে। পারলে তোরা টাকা আদায় করে নিস। তিনি আরও বলেন, তদন্ত করলে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের সত্যতা পাবেন। এমন ভুক্তভোগীদের আব্বাসের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে আব্বাস আলী শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোস্তাফিজুর ও আমি একসাথে কাজ করি। টাকা আমি একা খায়নি, মোস্তাফিজুরকেও দিয়েছি। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ব্যাপারে আমি আপনাদের সাথে কোন কথা বলতে চাই না। এটি আমার গ্রামের ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিষয়। আপনি আমার কাছে এ বিষয়ে আর কখনো ফোন দেবেন না, বলে ফোন কেটে দেয়। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। তিনি বলেন, আব্বাস আলীর সাথে আমার সম্পর্ক আছে। তবে সে বিদ্যুৎ সংযোগ বা মিটার বাবদ আমাকে কোন টাকা পয়সা দেয়নি। তবে স্থানীয়রা জানায়, আব্বাস আলী এবং মোস্তাফিজুর দু’জনের মধ্যে সখ্যতা আছে। কিছুদিন আগেও মোস্তাফিজুরের আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল। হঠাৎ তার আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। আলিসান বাড়ি, নিত্য নতুন মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন মোস্তাফিজুর। ভুক্তভোগী স্থানীয়রা আব্বাস আলী ও মোস্তাফিজুরের সকল অপকর্মের এবং অবৈধ সম্পদের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
