মাজহারুল ইসলাম: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুরে দীর্ঘ ২ বছর যাবৎ অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্কুল শিক্ষিকা হুমায়রা জেসমিনের বিরুদ্ধে। তিনি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকার নামে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। স্কুলের হাজিরা সূত্রে জানা যায়, হুমায়রা জেসমিন ২০১৬ সালের ২১ জুন ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পরের দিন ২২ জুন থেকে ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি ছুটি অতিক্রম করে আরও ২৩ দিন পর পুনারায় স্কুলে হাজিরা দেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২৩ দিনের ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নেন। এরপর তিনি সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর স্কুলে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এ বিষয়ে রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জুয়ারা খাতুন জানান, ‘হুমায়রা জেসমিন এই স্কুলে যোগদানের পর থেকেই অনিয়মিত। তাকে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ডিপিও অফিস থেকে ছুটি পাস করিয়ে নেব। এরপরও তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ মাঝে মধ্যে অনুপস্থিত থাকতেন’। এ বিষয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘ওই শিক্ষিকা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত আছে। আমি তার বিরুদ্ধে কয়েকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি। তারপর থেকে ওই শিক্ষিকার বেতন ভাতা বন্ধ আছে বলে শুনেছি। তবে, একজন শিক্ষিকা না থাকায় স্কুলের বাচ্চাদের লেখা পড়ায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ওই শিক্ষিকার যদি ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে তাহলে চাকরি ছেড়ে দেওয়া উচিৎ, কেননা একটা জায়গা (পদ) দখল করে রেখে শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় ফেলা ঠিক না। ওই শিক্ষিকার কারণে আমাদের স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে। আমি মনে করি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ খুব দ্রæত এ সমস্যার সমাধান করবেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা হুমায়রা জেসমিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলাম। কয়েকবার আমার মেডিকেল ছাড়পত্র জমা দিয়েছি ছুটির জন্য। তারপর সর্বশেষ মেডিকেল ছাড়পত্রের ভিত্তিতে আমার ছুটি মঞ্জুর হয়নি। সেই থেকে আমি আর কোন খোজ খবর রাখিনা। এ বিষয়ে উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা অফিসার বাসুদেব কুমার সানা জানান, হুমায়রা জেসমিনের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে পেরে স্কুলে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাই। তারপর থেকে তার বেতন ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া আমরা তার বিরুদ্ধে জেলা প্রাথিমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করি। বর্তমানে এ বিষয় কতদুর এগিয়েছে সেটা ডিপিও অফিস বলতে পারে। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন জানান, ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে দুইবার নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসের কোন উত্তর না পেয়ে আমরা পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালের ৭ ই মার্চ তার বিরুদ্ধে ৪/১৯ নং বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছি। এখন এটা বিভাগীয় বিষয়। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই হবে।
